এইদিন ওয়েবডেস্ক,জম্মু-কাশ্মীর,৩০ সেপ্টেম্বর : ২০২৫ সালের পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় যুক্ত লস্কর-ই-তৈয়বার (Lashkar-e-Taiba) শীর্ষ সন্ত্রাসী মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসাকে (Mohammad Asif alias Hashim Moosa) নিকেশ করেছে নিরাপত্তা বাহিনী । আজ বুধবার জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগাম জেলার পালময়দান এলাকায় একটি তল্লাশি অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পাকিস্তান ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) সন্ত্রাসী মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসার গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল থেকে যুদ্ধোপকরণও উদ্ধার করা হয়েছে।
চিনার কোর এই উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, পালময়দান এলাকার আশেপাশে ভোরবেলা তল্লাশি চালানোর সময় সেনারা মৃতদেহটি খুঁজে পায়।
‘অপারেশন কোরাগ’ সাংকেতিক নামের এই অভিযানটি সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইউসমার্গ এলাকায় শুরু করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, সতর্ক সেনারা সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের চ্যালেঞ্জ জানালে তারা গুলি চালায়। এরপর একটি বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়, যাতে মুসা খতম হয় । অন্য কোনো সন্ত্রাসী উপস্থিত আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত অস্ত্র বা অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের জন্য এলাকাটিতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে ।
২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে বেছে বেছে হত্যার ঘটনায় মুসাকে অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই হামলার পর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ আদিল হুসেন থোকার, আলী ভাই এবং হাশিম মুসাসহ পাকিস্তানি নাগরিক ও লস্কর-ই-তৈয়বার (এলইটি) সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রগুলো মুসাকে পাকিস্তানের স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের একজন প্রাক্তন প্যারা-কমান্ডো হিসেবেও শনাক্ত করেছিল।
পাহালগাম হামলার তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এর আগে পাকিস্তান-ভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) এবং এর অপর নাম দি রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) সহ সাতজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। উভয় সংগঠনই নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন। ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার এই অভিযোগপত্রে হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা ও বাস্তবায়নে অভিযুক্তদের ষড়যন্ত্র এবং ভূমিকার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী হ্যান্ডলার সাজিদ জাটকেও অভিযুক্ত হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছে।
মুসার দেহ এবং যুদ্ধোপকরণ উদ্ধারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নিরাপত্তা বাহিনী ইউসমার্গ এলাকায় পার্শ্ববর্তী এলাকা নিরাপদ করতে এবং সেখানে কোনো অতিরিক্ত সন্ত্রাসীর উপস্থিতি নেই তা নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।।

