এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,০৯ অক্টোবর : আজ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বচনের ফলাফল প্রকাশ হল । দুই আসনেই রেকর্ড ভোটে জিতেছে শাসকদল বিজেপি । বিরোধীরা যতই ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলুক না কেন, ভারতের ইতিহাসে কার্যত এই প্রথমবার বিজেপিকে দু’হাতভরে ভোট দিয়েছে মুসলিমরা । আর মুসলিমদের ভোলবদল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবিরের জীবনটাই বদলে দিয়েছে । স্বজাতির এই ভোলবদল কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি । মৃত্যুর পর স্বজাতিরা যাতে তার কবরে মাটি দিতে না পারে সেজন্য তিনি দেশান্তরী করার ঘোষণা করেছেন । তিনি বলেছেন, ‘আমি ১০ বছরের ভিসা করে দুবাই চলে যাব । সেখানেই বাকি জীবনটা কাটাতে চাই । ভালো খাওয়াদাওয়া করে, সমুদ্রের হাওয়া খেয়ে সুখে-শান্তিতে থেকে সেখানেই কবরস্থ হতে চাই । এই মুনাফিকরা (প্রতারক) বিজেপির পা চেটে লুটেপুটে খাক । আমি চাইনা যে ওরা আমার মৃত্যুর পর কবরে মাটি দিতে পারে ।’ তবে বাবরি মসজিদ বানিয়েই তিনি দেশত্যাগ করবেন বলে জানান ।
মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ৭৪ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত ৷ এখানে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭২ হাজার ৭১০ ভোটে জয়ী হয়েছেন । দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হুমায়ুন কবিরের দল । তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে কংগ্রেস, সিপিএম এবং মমতা তৃণমূল। কিন্তু মুসলিম বহুল এলাকায় ‘হিন্দুত্ববাদী দল’কে স্বজাতিরা ভোট দেওয়ায় কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না হুমায়ুন । তিনি কয়েকজন মুসলিম নেতার নাম ধরে তাদের মুনাফিক (প্রতারক) বলে অবিহিত করে বলেছেন,’ওরা এবারে বিজেপি ও থানার ওসির পাচেটে মেরেমুরে খাক । আমি আর এদেশে থাকব না । আমি চাইনা ওই সমস্ত মুনাফিকরা আমার কবরে মাটি দিক ।’
তিনি বলেন, ‘২০২৯ সালে আমার বয়স ৬৬ হবে। যে কদিন বেঁচে থাকব, দুবাই গিয়ে খাবদাব-ঘুরব। সমুদ্রের হাওয়া খাব। সেখানেই কবরস্থ হব।’ তবে কি প্রতিশ্রুতি পূরণ না করেই দেশান্তরী হবেন? এই বিষয়ে তিনি বলেন,’বাবরি মসজিদ না বানিয়ে কোথাও এক পাও নড়ব না। মসজিদ কমপ্লিট করে তবেই দুবাই যাব। নিজেই এই দায়িত্ব ঘাড়ে নিয়েছি।’
গত বছর রেজিনগরে বাবরি মসজিদ বানানোর ধুয়ো তুলে তৃণমূল ছেড়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি গড়েছিলেন হুমায়ুন। তার পরে এ বছরে বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও বাবরি মসজিদ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে লড়েছিলেন তিনি। নিজে জিতেছেন রেজিনগর ও নওদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। তবে মসজিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বারবার প্রশ্ন তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা ।।

