এইদিন বিনোদন ডেস্ক,০৯ অক্টোবর : কিছু সম্পর্ক কোনো শোরগোল করে না, বরং সময়ের সাথে সাথে আরও দৃঢ় হয়। এমনই এক সম্পর্ক হল বলিউড অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী এবং শাবানা রাজার (নেহা) দাম্পত্য জীবন । প্রায় আট বছর প্রেম করার পর ২০০৬ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। এত বছর পরেও, তাঁদের সম্পর্কের অন্যতম সুন্দর একটি দিক হলো, তাঁরা সবসময় নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন।
প্রখ্যাত বলিউড অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী এবং তাঁর স্ত্রী সাবেক অভিনেত্রী শাবানা রাজা (যিনি পর্দায় নেহা নামেও পরিচিত)-র সম্পর্ক ও জীবন সম্পর্কে অনেকেরই অজানা । শাবানা ১৯৯৮ সালে ‘করিব’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন এবং পরে ‘হোগি পেয়ার কি জিত’, ‘ফিজা’ ও ‘অ্যাসিড ফ্যাক্টরি’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেন। তিনি একসময় অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ালেও, ২০২৪ সালে ‘ভাইয়া জি’ ছবির সহ-প্রযোজক হিসেবে মনোজের সঙ্গে আবার কাজ শুরু করেন।
রাম গোপাল ভার্মার কালজয়ী অপরাধভিত্তিক ছবি সত্যাতে ভিকু মাহাত্রের চরিত্রে অভিনয় করে মনোজ বাজপেয়ী নজর কেড়েছিলেন। অন্যদিকে, বিধু বিনোদ চোপড়ার করিব ছবির মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক হয়েছিল শাবানা রাজার। যদিও ছবিটি বক্স অফিসে সফল হয়নি, তবু নেহা চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
এক সাক্ষাৎকারে মনোজ জানান, প্রথম দেখাতেই শাবানার প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। একটি পার্টিতে প্রথম আলাপ হয় দু’জনের। সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে অভিনেতা বলেন, “করিব মুক্তির পর শাবানা তখন সবার নজরে। ওর সঙ্গে প্রথম দেখা এবং কথা বলার পরই আমি ওর প্রেমে পড়ে যাই। প্রথম দিন থেকেই আমাদের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল।”
মনোজের মতে, অভিনেত্রী হওয়ার কারণেই শাবানা তাঁর কাজের প্রকৃতি খুব ভালোভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। তাই বিয়ের পরও তিনি কখনও শুটিং সেটে যাওয়ার জন্য জোর করেননি। অভিনেতার কথায়, “শুরুর দিকেই ও বুঝে গিয়েছিল, শুটিং সেটে আমি একেবারেই অন্য মানুষ। সেই জায়গায় ও নিজেকে কখনও চাপিয়ে দিতে চায়নি। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেটে যাবে না।”
তাদের বিয়েটিও একটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক। মনোজ হিন্দু এবং শাবানা মুসলিম, কিন্তু তারা তাদের ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসকে কখনো নিজেদের মধ্যে দেয়াল হতে দেননি।প্রায় সাত বছর প্রেমের পর ২০০৬ সালে বিয়ে করেন মনোজ ও শাবানা। ২০১১ সালে তাঁদের কন্যা আভা নায়লার জন্ম হয়। ২০০৯ সালে অভিনয় ছেড়ে দিলেও, গত তিন দশকে সত্যা থেকে দ্য ফ্যামিলি ম্যান মনোজের পুরো অভিনয়জীবনের উত্থান খুব কাছ থেকে দেখেছেন শাবানা। মনোজ প্রায়ই মজা করে বলেন যে তার স্ত্রী ও মেয়েই বাড়ির আসল কর্তা।
শাবানাকে বিয়ে করার জন্য সামাজিক বা পারিবারিক চাপের সম্মুখীন হয়েছিলেন কিনা, এই বিষয়ে জানতে চাইলে মনোজ মোজো স্টোরিতে বরখা দত্তকে তিনি বলেন,’যদি এমন কোনো চাপ থেকেও থাকে, তবে তা আমাকে জানানো হয়নি, আমার কাছে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। আমি একটি ব্রাহ্মণ পরিবার থেকে এসেছি, সে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। কিন্তু, আশ্চর্যজনকভাবে, আমার পরিবারের কেউই এতে আপত্তি করেননি। কখনোই না। (জাতি বা ধর্ম নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি)। এখন পর্যন্ত, কখনোই না।’
মনোজ আরও বলেন যে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী দুজনেই ধার্মিকের চেয়ে বেশি আধ্যাত্মিক। “আমার স্ত্রী একজন গর্বিত মুসলিম, যেমন আমি একজন গর্বিত হিন্দু, কিন্তু এতে কোনো বিরোধ নেই। কারণ আমরা ধার্মিকের চেয়ে বেশি আধ্যাত্মিক। আমার স্ত্রীর ধর্ম নিয়ে কথা বললেও, আমার মুখের ওপর আমার সাথে কথা বলার মতো শক্তি বা সাহস তাদের থাকত না। কারণ তারা জানে যে আমি কোনো কথা ঘুরিয়ে বলি না। কেউ এমন কথা বললে আমি খুব কঠোর হই। আমি খুব, খুব কড়া জবাব দিই। তখন আমি একজন কঠিন মানুষ হয়ে যাই।”
হয়তো এটাই তাদের গল্পকে এত বিশেষ করে তুলেছে । কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রচার নেই, নেই অবিরাম প্রচারের আলো, আছে শুধু দুজন মানুষ যারা বছরের পর বছর ধরে নীরবে একে অপরের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।।

