এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,০৯ অক্টোবর : গুরুতর অপরাধীদের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে মৃত্যুদণ্ড কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। ভারতসহ বিভিন্ন দেশ মৃত্যুদণ্ডকে অপরাধীদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে বিবেচনা করে। আফগানিস্তান, ইরান, সৌদি আরব এবং উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলিতে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ, ফাঁসি এবং গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। কিন্তু ৯০ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তা সংবাদের শিরোনামে আসছে।
২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ১৩ নিরস্ত্র সেনাকর্মীকে হত্যার দায়ে প্রাক্তন মার্কিন মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডে কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন।নজিরবিহীন ভাবে সেই দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভস্ট্রিম করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, জনসাধারণের দেখার জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ‘রিয়েল আমেরিকাস ভয়েস’ পডকাস্টে হেগসেথ বলেন, এ ধরনের অপরাধের পরিণতি সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্যই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
হেগসেথ আরও বলেন,’সেনাবাহিনীর একজন মেজর এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে এবং একজন ইসলামিক সন্ত্রাসীর হামলায় ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডটি একটি জনবহুল স্থানে কার্যকর করা হবে।’
আগামী ৩ ডিসেম্বর দুপুর ২টায় ফাঁসি কার্যকর করা হবে। এর আদেশটি ২ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষর করেন। মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা ফোর্ট হুড হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর। মার্কিন সেনাবাহিনীর মেজর ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসান টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে তার সহকর্মীদের ওপর গুলি চালান। পরে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনি জিহাদের অংশ হিসেবে এটি করেছিলেন। এতে ১৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৩০ জন আহত হন।
২০১৩ সালে একটি সামরিক আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে সর্বশেষ সরকারি প্রকাশ্য ফাঁসি কার্যকর হয়েছিল ১৯৩৬ সালের ১৪ আগস্ট কেন্টাকির ওয়েনসবোরোতে। ৭০ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের দায়ে ২২ বছর বয়সী আফ্রিকান -আমেরিকান যুবক রেইনি বেথিয়াকে সেদিন প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।।

