এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ অক্টোবর : গতকাল বীরভূমের সিউড়িতেই অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই পার্টি অফিসে হামলা চালায় তিন যুবক। অনুব্রত চেয়ারে বসে থাকার সময় সামনের টেবিলের কাঁচ গাছের চ্যালা কাঠ দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে দেয় তারা । হামলার জেরে একসময়ের বীরভূমের দৌর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতার চোখের নীচে কাচের টুকরো লেগেছে। সেখানে ক্ষত তৈরি হয় । পরে পুলিশি এসকর্টে তিনি বোলপুর ফিরে যান৷ এদিকে এই হামলার খবর পাওয়ার পর অনুব্রতকে ফোন করেছিলেন বলে জানান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি হামলার দায় বিজেপির ঘাড়ে চাপিয়ে দেন । যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য । তার কথায়, ‘এটা পরিকল্পিত নাটক’৷
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বারাসত রিজেন্ট গার্মেন্ট অ্যান্ড অ্যাপারেল পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য বলেন,’অনুব্রত মণ্ডল এর ওপর যে হামলা হতে পারে এটা এতদিন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিশ্বাস করত না । কারণ অনুব্রত মণ্ডল নিজেই একজন হামলাকারী ছিলেন। অনুব্রত মণ্ডল তার শব্দবন্ধের কারণে তৃণমূলের কার্যত পোস্টার বয় হয়ে গিয়েছিলেন ।’ তিনি বলেন,এখন গতকালকের যে ঘটনা আমি টিভির পর্দায় দেখলাম এটা বিশ্বাস করতেও আমার কষ্ট হচ্ছে । একটা অফিসে অনুব্রত মণ্ডল বসে আছেন…সেই অফিসে কুড়ি পঁচিশ জন ছেলে ক্যারাম খেলছে… তিনজন হঠাৎ ঢুকলো, সবাই নির্বাক দর্শক হয়ে থাকলো…মুখে কাপড় বেঁধে তারা এঘর ওঘর ঘোরাঘুরি করছে…যে যার মতো করে ক্যারাম খেলে গেল আর ওপরে বসে থাকা অনুব্রত মণ্ডল হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিলো!আর যাবার সময় একটা জয় শ্রীরাম বলে দিয়ে চলে গেল । এত দুর্বল চিত্রনাট্য আগে কখনো দেখিনি । এটা সম্পূর্ণ একটা পরিকল্পিত নাটক প্রস্তাবিত হয়েছে, এটা সবাই বুঝতে পারছে ।’
এদিকে হামলার সময় শান্তভাবে বসেছিলেন অনুব্রত। হামলার জেরে অনুব্রত মণ্ডলের চোখের নীচে কাচের টুকরো লেগেছে। সেখানে ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই সময় একজন হুমকি দেন, ‘ক্ষমা না চাইলে আপনাকে এখানেই মেরে ফেলা হবে।’ তখন উঠে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে ক্ষমা চান অনুব্রত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সিউড়ি থানার পুলিশ । পুলিশ তিন যুবককে আটক করে৷ গাড়িতে তোলার সময় তাদের মধ্যে একজনকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিতে থাকেন।।

