এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৯ জুন : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ।বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে এই হামলা শুরু হয়। নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের প্রতিহত করে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এর ফলে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক ব্যক্তি রয়েছে বলে জানা গেছে ।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের মধ্যে চারজন আহত হয়ে এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে একাধিক আরপিজি-৭ (রকেট প্রোপেল্ড গ্রেনেড) লঞ্চার, বেশ কয়েকটি একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতির মাধ্যমে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামি সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সমর্থনপুষ্ট বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ফজরের নামাজের পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।লাওয়ালি সালহা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে বলেন, “ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে আমরা প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। প্রথমে মনে হয়েছিল কোনো যানবাহনের টায়ার বিস্ফোরিত হয়েছে। পরে গুলির শব্দ শুনে বুঝতে পারি বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে।”
দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর নিরাপত্তা স্থাপনা। বেসামরিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি এখানে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিও রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে নাইজার সরকার ও সেনাবাহিনী বিভিন্ন কট্টরপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইএস-সমর্থিত একটি জঙ্গিগোষ্ঠী একই বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় একজন সেনাসদস্য এবং ২০ জন হামলাকারী নিহত হয়েছিল।গত তিন বছর ধরে নাইজারে সামরিক সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। সর্বশেষ হামলার পর জেএনআইএমের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে সেনাবাহিনী বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরে বিমানবন্দরটিতে এটি দ্বিতীয় বড় হামলার ঘটনা। এর আগে জানুয়ারি মাসে অনুরূপ একটি হামলার দায় স্বীকার করেছিল ‘ইসলামিক স্টেট’।২০২৩ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে নাইজার যখন দীর্ঘস্থায়ী ইসলামপন্থী বিদ্রোহ দমনে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই হামলার ঘটনাটি ঘটল।।
