এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,০৫ আগস্ট : সিপিএম আর তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় একটা বড়সড় জালিয়াতির পর্দাফাঁস বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর । তথ্য জালিয়াতি করে তফসিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্র বের করে ৮ ছেলেমেয়েকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন মুর্শিদাবাদ জেলার ফরাক্কা থানার বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের তিলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আইনুল হক । তার তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে । প্রত্যেকেই এখন সমাজে প্রতিষ্ঠিত। তার মধ্যে তিনজন অধ্যাপক । দু’জন আবার চিকিৎসক । বাকিরাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তাঁরা সকলেই জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের থেকে এসটি সার্টিফিকেট বানিয়েছিল। কিন্তু ৩১ জুলাই এসটি সার্টিফিকেট যাচাইকরণের জন্য তাদের জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে ডাকা হয়। সেখানে সব তথ্য খতিয়ে দেখার পর এসটি শংসাপত্রগুলি বাতিল করা হয়েছে। গত ২ জুলাই শংসাপত্রগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় ।
বাতিল হওয়া শংসাপত্রধারীদের মধ্যে একাধিক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মী ও শিক্ষাবিদ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উম্মে কুলসুম, যিনি ফরাক্কা চক্রের ভৈরবডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী শিক্ষিকা এবং বর্তমানে কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজের বায়ো- সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এছাড়াও রয়েছেন বীরভূমের মুরারই কলেজের একজন অধ্যাপক, কলকাতার একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একজন অধ্যাপক এবং দুইজন এমবিবিএস চিকিৎসক।
ফরাক্কার আইনুল হক ইমামনগর পঞ্চায়েতের তুলসীপুকুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফরাক্কা থানার বেওয়া-২ পঞ্চায়েতের তিলডাঙ্গা গ্রামে থাকে। আইনুল ঝাড়খণ্ডের একটি সরকারি মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন। অবসর নিয়েছেন। আইনুলের আট ছেলেমেয়ে। তিন ছেলে, পাঁচ মেয়ে। ২০০৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তাঁরা সকলেই জঙ্গিপুর মহকুমা শাসকের থেকে এসটি সার্টিফিকেট বানিয়েছিলেন।
জানা গিয়েছে, আইনুল হক ও তাঁর পরিবার প্রকৃতপক্ষে ওবিসি সম্প্রদায়ের। অভিযোগ, তথ্য জালিয়াতি করে তাঁর আটজন ছেলেমেয়ে নিজেদের “বেদিয়া” বলে দাবি করে এসটি সার্টিফিকেট বানিয়ে ফেলেছিল।
বিজেপি রাজ্যে শাসনক্ষমতায় আসার পর সম্প্রতি এই ব্যাপারে জঙ্গিপুর মহকুমাশাসকের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয় । অভিযোগের ভিত্তিতে আটজনকে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। সমস্ত নথিপত্র নিয়ে তাঁরা হাজির হয় । মহকুমা শাসক নথিপত্র খতিয়্ব দেখার পর গত ৩১ জুলাই তাদের এসটি শংসাপত্রগুলি বাতিল করে দিয়েছেন।তবে এই ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। ঘটনাকে ঘিরে তোলপাড় পড়ে গেছে রাজ্য জুড়ে ।।
