এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৯ জুন : ঢাকাই সিনেমার সুপরিচিত অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে চাকরি খোয়ালেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ গোলাম সাকলায়েন । তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অনুবিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভার থানার ঢাকা বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১৪ জুন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন অভিনেত্রী পরীমনি। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন মহম্মদ গোলাম সাকলায়েন । সেই সুযোগে তিনি অভিনেত্রীর সঙ্গে শারিরীক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরীমনির সঙ্গে শারিরীক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠার পর তাকে বদলি করা হয়েছিল এবং তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছিল।
এদিকে পরীমনির বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১৮ জুলাই নাসির উদ্দিন মাহমুদ হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে আদালতে পালটা মামলা করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাড়িতে অভিযান চালায় র্যাব। তখন তাকে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে তিন দফায় মোট ৭ দিন তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেপ্তারের ২৭ দিন পর ১ সেপ্টেম্বর পরীমনি কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।
পরীমনির সঙ্গে রাতের পর রাত কাটানোর ঘটনায় সমালোচনা শুরুর পর প্রথমে সাকলায়েনকে ডিবি থেকে সরিয়ে মিরপুরের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে সেখান থেকে তাকে ঝিনাইদহ ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়। ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএমপির ডিবিতে কর্মরত থাকার সময় পরীমনির সঙ্গে ঘটনাক্রমে গোলাম সাকলায়েনের দেখা হয় এবং যোগাযোগ শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পরীমনির বাড়িতে নিয়মিত রাত্রিযাপন করতে শুরু করেন। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার দেওয়া তার (সাকলায়েনের) মোবাইল ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২০২১ সালের ৪ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) পরীমনির বাড়িতে কাটিয়েছেন।।
