এইদিন ওয়েবডেস্ক,পাটনা,১৩ জুন : বিহারে সরকারি সম্পত্তি চুরির ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এখানে একদল চোর ১৩২ ফুট উঁচু একটি আস্ত মোবাইল টাওয়ার চুরি করেছে। এর আগে বিহারে একটি পুরনো রেলসেতু চুরির ঘটনা খবরে এসেছিল। তার জের মিটতে না মিটতেই আরও একটি ভয়ঙ্কর চুরির খবর সামনে এলো যা আগেরটিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
জানা গেছে, বিহারের বক্সার জেলার ডুমরাও এলাকা থেকে চোরেরা ১৩২ ফুট উঁচু একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং একটি ১৫ কেভিএ জেনারেটর চুরি করে নিয়ে গেছে।
বহু বছর ধরে অচল থাকা মোবাইল টাওয়ারটি মেরামত করতে জিটিএল ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। আবাসিক এলাকার মাঝখানে অবস্থিত বিশাল টাওয়ারটির উধাও হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা হতবাক হয়ে গেছেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে কর্মকর্তারা ১৩২ ফুট উঁচু টাওয়ারটি সম্পূর্ণ উধাও দেখে হতবাক হয়ে যান। টাওয়ারটির সঙ্গে একটি ১৫ কেভিএ জেনারেটর সেট এবং অন্যান্য কারিগরি সরঞ্জামও খোয়া গেছে। কোম্পানির এক প্রতিনিধি ডুমরাও থানায় টাওয়ার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম চুরির অভিযোগে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বক্সার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শুভম আর্য বলেন, “টাওয়ার অপসারণের বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর মামলাটির তদন্ত চলছে।” একইভাবে, জমির মালিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
জমির মালিক হরেনাথ যাদব জানান, প্রায় ১০ বছর আগে কোম্পানিটির সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।চুক্তিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়ে গেছে। এরপর কোম্পানিটি টাওয়ার স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত জমির ভাড়াও দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা চারবার নোটিশ দিয়েছি কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। এখন খবর পাওয়া যাচ্ছে যে টাওয়ারটি উধাও হয়ে গেছে ।”
বলেন স্থানীয় বাসিন্দা বিকাশ কুমার সিং বলেন, “টাওয়ারটি প্রায় ১৫ বছর আগে স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এটি বহু বছর ধরে অচল ছিল। এখন আমরা জানতে পেরেছি যে টাওয়ারটি উধাও হয়ে গেছে ।”
এর আগে, বিহারের রোহতাস জেলার দেহরি-অন- সোন এলাকায় সোন নদীর উপর একটি অব্যবহৃত লোহার রেলসেতুর একটি বড় অংশ চুরি হয়ে গিয়েছিল। ২০২২ সালে, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ৫০০ টন ওজনের একটি লোহার সেতু সরকারি কর্মকর্তা সেজে চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। একইভাবে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমস্তিপুর জেলায় প্রায় ২ কিলোমিটার রেললাইন এবং এর ভাঙা মালপত্র চুরির অভিযোগে চোরদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যদিও এই দুটি ঘটনাতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তবে পুলিশের তদন্ত থেকে এখন পর্যন্ত কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।।
