এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১০ জুন : তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পর ফের কি পুরনো দলেই ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ? রাজনৈতিক মহলে এমন জল্পনাই এখন তীব্র হয়েছে। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠকের পরই তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও দলের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব দিয়েছেন রাহুল গান্ধি । এদিকে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের তাবড় নেতারা কিন্তু মমতা-অভিষেককে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বলে শোনা যাচ্ছে । কারন তৃণমূল শাসনক্ষমতায় থাকার সময় সীমাহীন দুর্নীতি । “চোর” দুর্নাম পাওয়া নেতৃত্বকে দলে কংগ্রেসের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা ।
বিশেষ করে রাজ্য কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী কি করবেন, তা নিয়ে সকলের কৌতুহল সবচেয়ে বেশি । তবে কানাঘুঁষা যেটা খবর আসছে, কংগ্রেস ও টিএমসি-র একীভূতকরণ ঘটলে অধীর রঞ্জন চৌধুরী কংগ্রেস দল ত্যাগ করবেন এবং দলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন ! এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন, নাকি সিপিআইএম-এ ! তবে “নতুন তৃণমূল”-এও তার যোগদানের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করা হচ্ছে ।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পরিষদীয় ও সংসদীয় দল ভেঙে খান খান । তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জনই বিদ্রোহী । আজ বুধবার তৃণমূলের বিদ্রোহী সংখ্যা ৬৪ তে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় । আগামীকাল সেটা ৬৫ তে পৌঁছে যাবে এবং আদি তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা ‘উত্তরোত্তর বাড়ছে’ বলেও তিনি দাবি করেছেন । অন্যদিকে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা এখনো পর্যন্ত ২০ জন । যদিও ঋতব্রত এদিন স্পষ্ট জানিয়েছে যে তারা কংগ্রেসে যাচ্ছেন না ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের অন্দরে ক্রমবর্ধমান অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙন রুখতেই এই কৌশল নিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি । দলের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে লোকসভা ও বিধানসভার বেশ কয়েকজন বিধায়ক ও সাংসদ আলাদা ব্লক তৈরির পরিকল্পনা করছেন। তারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের প্রতীক ও তহবিল দখলের চেষ্টা করতে পারেন । সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই মমতা ব্যানার্জি কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ফেরার পরিকল্পনা, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা ।।
