এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৭ এপ্রিল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ছয় সপ্তাহের সংঘাতের পর ইরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে এবং দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
গতকাল হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ভালোভাবে চলছে। সেগুলো খুবই সফল ছিল। তিনি বলেন, তারা আমাদের কাছে ‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে।সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদকে বোঝাতে তিনি এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন।ওয়াশিংটনের মতে, এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পর এই ঘোষণাটি আসে যে, ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিকে দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করতে পারে।
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার পরবর্তী দফা এই সপ্তাহান্তেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এর থেকে বোঝা যায় যে, ইরান আলোচনায় আরও বেশি আগ্রহ দেখিয়েছে।তিনি বলেন,”ইরানের সাথে এখন আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে, যা আমার মতে প্রায় চার সপ্তাহের বোমা হামলা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত ফল ।”
চুক্তিতে কী আছে?
প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ, পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর, বিনামূল্যে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি একটি প্রধান প্রতিবন্ধকতা। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর ২০ বছরের স্থগিতাদেশের প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু শোনা যাচ্ছে তেহরান ৩-৫ বছরের একটি স্বল্পমেয়াদী স্থগিতাদেশ চাইছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি করেছে। দুটি ইরানি সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে যে, দেশটি তার মজুদ করা ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ দেশের বাইরে পাঠানোর কথা বিবেচনা করছে।।
