এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৬ এপ্রিল : মমতা ব্যানার্জির কথিত “ধর্মনিরপেক্ষতা” বনাম শুভেন্দু অধিকারীর “হিন্দুত্ববাদ”- এবারের বঙ্গ বিধানসভার ভোটের প্রচারের মূল ইস্যু । একদিকে মমতা যখন হিন্দু ও মুসলিম ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখতে তৎপর, তখন অন্যদিকে হিন্দু ভোট বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছেন শুভেন্দু । নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম ও কলকাতার ভবানীপুর থেকে শুরু করে শুভেন্দু যেখানেই জনসভা করছেন, তার বক্তব্যে উঠে আসছে “হিন্দুত্ববাদের” প্রসঙ্গ । গতকাল ভবানীপুর নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে কথিত “উর্দু আগ্রাসনের” বিরুদ্ধে “লড়াইয়ের” ডাক দিয়েছেন । এক্ষেত্রে তিনি হাতিয়ার করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের পুরনো কিছু বক্তব্যকে ।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন,”মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কয়েকটা কথা আমরা ভুলিনি । পাকিস্তানের ডন পত্রিকার রিপোর্টার এসেছিলেন । গিয়েছিলেন মমিনপুর ইকবালপুরে । তখন এই মহানগরীকে বলছেন, “ইঁহা ভি এক মিনি পাকিস্তান হ্যায়” । আরো কি বলেছেন ? বলেছেন, “আমি ইসলাম ধর্মে জন্মেছি আমি ভাগ্যবান,কিন্তু যারা ইসলাম ধর্মে জন্মায়নি তারা দুর্ভাগ্যশীল” । আরো কি বলেছেন ? বলেছেন,”আমি সেদিন খুশি হব যেদিন পশ্চিমবঙ্গের ৫০ শতাংশ লোক উর্দুতে কথা বলবে” ।’
এরপর শুভেন্দু অধিকারী বলেন,”বন্ধু, এই নববর্ষে শপথ নিন বাঙালি সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, আমার প্রিয় বাংলা ভাষা যেন হারিয়ে না যায় । মমতা ব্যানার্জি রাজস্থান,গুজরাট,বিহার, পাঞ্জাব আর মহারাষ্ট্রের লুকাদের “বাহারি” বলেন। আর বাংলাদেশ থেকে আসার রোহিঙ্গা মুসলমানদের “দামাদ” বলে । এই জিনিস বন্ধ করতে হবে । পহেলা বৈশাখের শুভ লগ্নে শপথ নিন আমরা উর্দু আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়বো । আমরা আরবি সংস্কৃতি থেকে দূরে থাকব,যেখানে মহিলাদের বোরখার ভিতরে রাখা হয় । আমরা এই জিনিস করতে দেব না । আমরা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির বাংলা, বিবেকানন্দের বাংলা, শ্রীচৈতন্যদেবের বাংলা এই জিনিস করতে দেব না।”
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোট এবারে দু’দফায় হচ্ছে- আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল । আর মাত্র ৭ দিন বাকি । ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ মে । তার আগে জোর কদমে প্রচার শুরু করেছে শাসক এবং বিরোধী দলগুলি । বিশেষ করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং অভিষেক ব্যানার্জি প্রতিদিন একাধিক জনসভা করছেন । অন্যদিকে প্রচারের ঝাঁঝ দেখা যাচ্ছে বিজেপির মধ্যেও । বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারী প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলাগুলিতে একাধিক করে জনসভা করছেন । বিরোধী দলনেতা জনসভাতে বারবার একটা দাবি করেন যে এবারের তৃণমূল সরকারের পতন নিশ্চিত । যদিও মমতা ব্যানার্জি চতুর্থ দফায় ক্ষমতায় ফিরে আসার বিষয়ে আশাবাদী।।
