এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১২ আগস্ট : রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার । স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) নয়া কমিটিতে জায়গা পেলেন চার সদস্য। সেই তালিকায় থাকা চারজনের মধ্যে তিনজনই রামকৃষ্ণ মিশনের উচ্চশিক্ষিত ‘স্বামীজি’। চতুর্থজন হলেন ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের এক অধ্যাপক। শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই চার সদস্যকে সামনে রেখে এসএসসি-র স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর ২০১৬ সালের প্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল । যার কারণে আদালতের নির্দেশে ২৬,০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছিল।জেলে গিয়েছেন এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য, উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিনহা। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরেই এই ঘুঘুর বাসা ভাঙতে এসএসসি-র খোলনলচে বদলে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে ।
গতকাল মঙ্গলবার(১০ আগস্ট ২০২৬), স্কুল শিক্ষা দপ্তরের একটি “নির্দেশে” বলা হয়েছে : পশ্চিমবঙ্গ স্কুল পরিষেবা কমিশন আইন, ১৯৯৭-এর ধারা ৩(৪))
-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে, রাজ্যপাল এতদ্বারা নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল পরিষেবা কমিশনের (WBCSSC) সদস্য হিসাবে অবিলম্বে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিযুক্ত করছেন:
১. স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ: প্রো-চ্যান্সেলর এবং রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (RKMVERI)-এর সচিব।
২. স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ: রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রম, নরেন্দ্রপুর, কলকাতা-এর সচিব।
৩. স্বামী তত্ত্বসরানন্দ: রামকৃষ্ণ মঠ (বেলুর মঠ)-এর ট্রাস্টি, রামকৃষ্ণ মিশন (বেলুর মঠ)-এর গভর্নিং বডি সদস্য এবং রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার (গোল পার্ক, কলকাতা)-এর সচিব।
৪. অধ্যাপক রম্যা তারকাদ ভেঙ্কটেশ্বরন, অধ্যাপক, স্ট্র্যাটেজিক ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM) কলকাতা। সদস্য হিসেবে তাঁদের চাকরির শর্তাবলী পশ্চিমবঙ্গ স্কুল পরিষেবা কমিশন আইন, ১৯৯৭ এবং তদনুসারে প্রণীত নিয়মাবলী দ্বারা পরিচালিত হবে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হচ্ছে। এই আদেশটি এই বিভাগের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা হলো।
স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ
মাদ্রাজ ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি করেন স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দ। তাঁর পার্টিকল থিয়োরি সংক্রান্ত গবেষণাপত্র দেশের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭৮ সালে তিনি রামকৃষ্ণ মিশনে যোগ দেন। বেলুড় মঠের অধীন রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির কলেজে ২৫ বছর ধরে ফিজিক্স পড়িয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে অধ্যক্ষও হন তিনি।
স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানানন্দ
রামকৃষ্ণ মিশনের অন্যতম সন্ন্যাসী শাস্ত্রজ্ঞানানন্দ। বেলুড়ের অধীন নরেন্দ্রপুর রামকষ্ণ মিশনের পদের পাশাপাশি রামকৃষ্ণ মিশন সারদাপীঠের দায়িত্বেও থেকেছেন তিনি।
স্বামী তত্ত্বসরানন্দ
দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা আছে তাঁরা। জানা যাচ্ছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও এডুকেশনে এমএ করেছেন তিনি। এডুকেশনে পিএইচটি স্বামী তত্ত্বসরানন্দ।
রাম্যা তারকড ভেঙ্কটেশ্বরা
কালিকটের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক হন তিনি। পরে আইআইএম, বেঙ্গালুরু থেকে পোস্ট গ্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ও ফেলো প্রোগাম ম্যানেজমেন্ট (পিএইচডি-র সমতুল্য) করেন তিনি। একাধিক পুরস্কার ও সম্মানও পেয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেজে লেখা হয়েছে, “শিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, এটি মানুষ গড়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পথ। সেই শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও মূল্যবোধনির্ভর, আদর্শভিত্তিক ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে স্বামী আত্মপ্রিয়ানন্দজী মহারাজ, স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানানন্দজী মহারাজ ও স্বামী তত্ত্বসারানন্দজী মহারাজের মতো প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বদের দায়িত্ব অর্পণ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।শিক্ষা, সংস্কার ও মানবিক মূল্যবোধের এই সুন্দর সমন্বয় আগামী প্রজন্মের জন্য এক নতুন আশার বার্তা বহন করুক। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন।”

