এইদিন ওয়েবডেস্ক,বীরভূম,২৯ সেপ্টেম্বর : বীরভূমের বোলপুরের বিজেপি নেতা চন্দন ভল্লা খুনের ঘটনার ২ দিনের মধ্যেই কিনারা করল পুলিশ । গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২ জনকে । পুলিশ জানিয়েছে,ধৃতরা হল শেখ আনারুল ও দীপঙ্কর রায় ওরফে টেনু । দু’জনের বাড়ি বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় । দীপঙ্কর জমির দালালি করত ৷ আর শেখ আনারুলের মোবাইলের দোকান আছে । আজ মঙ্গলবার তাদের গ্রেপ্তার করা হয় । পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিবাদের বিষয়টি উঠে এসেছে । এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার৷
রবিবার ভরসন্ধ্যায় খুন হন বোলপুরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপির ২০২ নম্বর বুথের সভাপতি চন্দন ভল্লা । রবিবার সন্ধ্যায় ফোন করে বোলপুর শহরের মতিপুকুর রোড সংলগ্ন ত্রিশূলাপট্টি-মিলপট্টি এলাকায় আসতে বলা হয় তাকে । প্রায় সোয়া ৭ টা নাগাদ তিনি সেখানে আসতেই সাদা রঙের অ্যাপাচে বাইকে চড়ে আসা দু’জন পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে চন্দন ভল্লার মাথায় গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় । স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ ঘোষ বলেন, ‘বাইকটা এতটা জোরে চালানো হচ্ছিল যে,আর একটু হলেই আমায় ধাক্কা দিত ।’ তিনি জানান, গাড়ির নম্বর ছিল “৫৮১৫” । যে বাইক চালাচ্ছিল তার মাথায় ছিল সাদা টুপি এবং মুখ গামছা দিয়ে জড়ানো । পিছনে বসেছিল মোটাসোটা চেহেরার এক ব্যক্তি,যার পরনে ছিল কমলা রঙের টিশার্ট ।
গুলি চলার সাথে সাথেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চন্দন। গুলির শব্দ পেয়েই ছুটে যান স্থানীয়রা। তড়িঘড়ি চন্দনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রথমে রাজনৈতিক শত্রুতার অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ শুরু থেকেই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত শত্রুতা-সহ একাধিক সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছিল।সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান, পুলিশ কুকুর ও ফরেনসিক দলের সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়৷
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কোনও রাজনৈতিক যোগের প্রমাণ আপাতত মেলেনি। বরং জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিবাদের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে তদন্তকারীরা।কী নিয়ে জমি-জায়গা সংক্রান্ত বিবাদ? সেই বিবাদের সঙ্গে চন্দন ভল্লার সম্পর্ক কী? খুনের পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল? প্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির ভুমিকা ঠিক কতটা ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দুই ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ৷ এই হত্যাকাণ্ডে আরও গ্রেপ্তরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর ।।

