গতকাল বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি একটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন ২৩০ আসন নিয়ে ফের সরকার গঠন করবে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ কিছু মিডিয়াও তাদের এক্সিট পোলে তৃণমূলের ফিরে আসার ইঙ্গিত দিলেও মুখ্য সমীক্ষাকারী মিডিয়াগুলি বিজেপিকেই এগিয়ে রেখেছে ৷ গতকাল আরও একটি নামি সমীক্ষাকারী সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল সামনে এসেছে ৷ যা মমতা ব্যানার্জির জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের ৷ জাতীয় স্তরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সমীক্ষক সংস্থা ‘টুডেজ চাণক্য’ (Today’s Chanakya) যে পরিসংখ্যান সামনে এনেছে, তাতে আক্ষরিক অর্থেই বঙ্গ রাজনীতিতে সুনামি আছড়ে পড়ার ইঙ্গিত। চাণক্যের পূর্বাভাস বলছে, এবার আর কোনো অঘটন নয়, বরং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। ‘টুডেজ চাণক্য’ হল সেই সমীক্ষক সংস্থা,যারা ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পূর্বাভাস দিয়েছিল, আর প্রায় হুবহু মিলেও গিয়েছিল ।
২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। ‘টুডেজ চাণক্য’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে নবান্ন দখল করবে বিজেপি । শুধু ম্যাজিক ফিগার ছোঁবে না, বরং তা টপকে পৌঁছে যাবে ১৯২(± ১১)-এর ঘরে । যেখানে তৃণমূল থমকে যেতে পারে মাত্র ১০০(± ১১)টি আসনে। ভোট শতাংশের লড়াইয়েও তৃণমূলকে অনেক পিছনে ফেলে দেবে গেরুয়া শিবির । যেখানে বিজেপির পক্ষে ৪৮% (± ৩%) ভোট পড়ার কথা বলা হয়েছে,সেখানে তৃণমূলের ঝুলিতে পড়তে পারে ৩৮% (± ৩%) ভোট । ব্যবধান প্রায় ১০% । অনান্যরা পেতে পারে ১৪% (± ৩%) ভোট ।
উল্লেখ্য,আদিবাসী অধ্যুষিত পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামকে বলা হয় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা দখলের চাবিকাঠি । আর এখানেই তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার ইঙ্গিত দিয়েছে চাণক্য । শুধু পুরুলিয়া বা ঝাড়গ্রামই নয়, এবারে পূর্ব বর্ধমানের আদিবাসী অধ্যুষিত জঙ্গলমহল আউশগ্রামেও রেকর্ড ভোটদান তৃণমূলের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে । বিশেষ করে এসসি (SC) এবং ওবিসি (OBC) ভোটব্যাঙ্ক যেভাবে শাসক দলের হাতছাড়া হয়েছে, তা অভূতপূর্ব।
যদিও মমতা ব্যানার্জি এখনো আশাবাদী যে তার দলই নিরঙ্কুশ চতুর্থবারের মত ক্ষমতায় আসতে চলেছে । তবে তার শারিরী ভাষাতে উদ্বেগের স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে ৷ এখন রাজ্যে পরিবর্তনের পরিবর্তন, নাকি প্রত্যাবর্তন ? এই উত্তর জানা যাবে আগামী ৪ মে ফলাফল প্রকাশের পর ।।
