এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ মে : গতকাল সন্ধ্যা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্রং রুম ‘পাহারা’র দিয়েছিলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি । দাবি করেন, নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় ইভিএম নিয়ে কারচুপির ফুটেজ সামনে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক ওদিক করছে, তাই আমি আমার কেন্দ্রে এসেছি।” অন্যদিকে মমতার বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির চেষ্টার পালটা অভিযোগ তুলেছেন বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । অবশ্য তিনি দলীয় কর্মীদের ‘আশ্বস্ত’ করেছে যে ‘বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী কোনো অসৎ উপায় অবলম্বন’ করতে পারেননি ।
উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্ট্রং রুমে মমতা ব্যানার্জিকে ঢুকতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে শুভেন্দু অধিকারীর ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাসকে কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিকের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করতে দেখা যায় । যদিও পরে পুলিশ তাকে স্ট্রং রুমে ঢোকার অনুমতি দেয় । স্ট্রং রুমের ভিতরে মমতা ব্যানার্জির মুখোমুখি সূর্যনীল দাসের বসে থাকার সিসিটিভি ফুটেজের একটা স্ক্রীন শর্ট এক্স-এ শেয়ার করে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন,’ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকা সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গবাসী ভোটার ভদ্রমণ্ডলী কে আশ্বস্ত করতে চাই যে এই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী, মাননীয়া কে কোনোরকম বাড়তি সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। উনি যতোই চেষ্টা চালান না কেন, কোনো রকম নিয়ম বহির্ভূত কাজ তিনি করতে পারেন নি।উনি যতক্ষণ স্ট্রং রুম প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন, আমার ইলেকশন এজেন্ট অ্যাডভোকেট সূর্যনীল দাস নিজে উপস্থিত থেকে ওনাকে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছিলেন যাতে উনি কোনো অসৎ উপায় অবলম্বন করতে না পারেন…।’
গতকাল রাজ্যজুড়ে ভোট-পরিস্থিতি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ভিডিওবার্তায় তিনি স্পষ্ট জানান, ইভিএম নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা আছে এবং তাই স্ট্রংরুমে কড়া পাহারার প্রয়োজন। কর্মীদেরও স্ট্রংরুমের উপরে নজর রাখতে নির্দেশ দেন তিনি। এরপর বিকেলেই ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভবানীপুরের গণনা কেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান তিনি। বৃহস্পতিবার স্ট্রং রুম বিতর্কে দফায় দফায় উত্তেজনা বাড়ে। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে ছিলেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। তখন স্কুলের বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় স্ট্রং রুম।বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মমতা ব্যানার্জি বলেন,’মানুষ যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন, তার স্বচ্ছতা বজায় থাকা জরুরি। গণনায় কারচুপির চেষ্টা করলে বরদাস্ত করব না।’
তবে কমিশনের পক্ষে সিইও মনোজ আগারওয়াল বৃহস্পতিবার রাতে কুণাল ঘোষ ও শশী পাঁজারা তোলা স্ট্রং রুমে কারচুপি ও বহিরাগতদের আনাগোনার যে অভিযোগ তুলেছিলেন তা খারিজ করে দেন। তাঁর দাবি, সব ইভিএম সুরক্ষিত রয়েছে। পোস্টাল ব্যালট বাছাইয়ের কাজ করছিল কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা ।।
