এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৫ জুলাই : ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো একটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি) এবং স্থানীয় পুলিশ সোনৌলি সীমান্তের কাছে এক সন্দেহভাজন মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে। ওই মার্কিন একটি পায়ে চলা পথ দিয়ে নেপালে গোপনে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। আটককৃত ব্যক্তি হল জর্ডান ব্রাউন, যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা। তিনি একজন প্রাক্তন ইউএস নেভি সিল সদস্যও। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতার কারণে সীমান্তে একটি বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এই অভিযানটি ভারত-নেপাল সীমান্তের ৫১৬ নম্বর পিলারের কাছে সংঘটিত হয়। সৈন্যরা রাস্তা দিয়ে একজন সুঠামদেহী বিদেশিকে হাঁটতে দেখেন। তাঁরা তাঁকে থামার জন্য সংকেত দেন। এরপর সন্দেহভাজন ব্যক্তিটি পালানোর চেষ্টা করে। সতর্ক সৈন্যরা স্থানীয় গ্রামবাসীদের সহায়তায় সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং গ্রেপ্তার করে।
তল্লাশির সময় তাঁর কাছে কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা পাওয়া যায়নি। তাঁর কাছ থেকে দুটি ভাঙা মোবাইল ফোনও পাওয়া যায়। একটি চীনা পাসপোর্ট এবং একটি এআই অনুবাদ যন্ত্রও উদ্ধার করা হয়। জর্ডানের এই গ্রেপ্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থার সতর্কতা এবং গ্রামবাসীদের সমন্বয়ের ফল। এই গ্রেপ্তারের পর সীমান্তে তল্লাশি আরও কঠোর করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় জর্ডান ব্রাউন নিজের সম্পর্কে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে, তিনি প্রায় ছয় বছর মার্কিন বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন এবং গত দুই বছর ধরে একজন বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন। তার কাছ থেকে পাওয়া চীনা পাসপোর্টটি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে আরও সতর্ক করেছে। তিনি ক্রমাগত তার বক্তব্য পরিবর্তন করছেন এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তার ৭০টি দেশে ভ্রমণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন, যার ফলে সংস্থাগুলো তার প্রতিটি দাবি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে বাধ্য হচ্ছে।
জর্ডান প্রথমে জানিয়েছিলেন যে তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতে এসেছিলেন। তার ভিসার মেয়াদ ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শেষ হয়ে যায়। পরে তিনি তার বক্তব্য সংশোধন করে জানান যে, তার পাসপোর্ট থাইল্যান্ডে হারিয়ে গিয়েছিল এবং তিনি শ্রীলঙ্কা হয়ে সমুদ্রপথে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তিনি গত কয়েক মাস ধরে মুম্বাই, গোয়া, দিল্লি, বারাণসী এবং বেঙ্গালুরুর মতো প্রধান শহরগুলোতে যাতায়াত করছিলেন। সংস্থাগুলো এখন ওই শহরগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে।
তদন্তে জানা গেছে, জর্ডানের পরবর্তী লক্ষ্য ছিল নেপাল ও বাংলাদেশ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সন্দেহ করছে যে, পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যেই সে এই দেশগুলোতে ভ্রমণ করছিল। ভারতে তাকে সাহায্যকারী রাজ, চেতন ও নাজের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পুলিশ তাদের গোপন আস্তানায় অভিযান চালাচ্ছে। জর্ডানের আসল উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য তার ভাঙা ফোন থেকে তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গত কয়েক মাসে এটি দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিকের গ্রেপ্তার, যা মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুতর করে তুলেছে। এর আগে, এনআইএ মিজোরাম সীমান্তে এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল। তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ ছিল। জর্ডান ব্রাউনকে মহারাজগঞ্জ জেলে পাঠানো হয়েছে। মার্কিন দূতাবাসকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। ভারতীয় সংস্থাগুলো এই পুরো নেটওয়ার্কটি ভেঙে দেওয়ার জন্য কাজ করছে।।
