এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৫ জুলাই : ‘নতুন তৃণমূল’-এর জন্ম হয়েছে মূলত ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ ও অভিষেক ব্যানার্জির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ থেকে । প্রথমতঃ, আই প্যাকের মত একটা কর্পোরেট সংস্থাকে দিয়ে দল পরিচালনা । এবং দ্বিতীয়তঃ, বিভিন্ন দুর্নীতিতে অভিষেক ব্যানার্জির নাম জড়ানো । অনুব্রত মণ্ডল এবং কল্যাণ ব্যানার্জিরা ২৬-শের ভোটে দলের ভরাডুবির জন্য একমাত্র অভিষেককে দায়ি করেছে । তবে ‘পিসি’ মমতা ব্যানার্জির কথায় এটা তাদের ‘বাহানা’ । শুধু তাইই নয়, ‘ভাইপো’কে ক্লিনচিট দিয়ে তিনি বলেছেন : ‘অভিষেক বাঘের মত লড়াই করে যাচ্ছে’ । তিনি দলের বিদ্রোহীদের অভিষেকের কাছ থেকে শেখার পরামর্শ দিয়েছেন ।
এদিনের ফেসবুক লাইভে মমতা ব্যানার্জি ‘নতুন তৃণমূল’-এর উপর অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিলেন । তিনি বলেন,’যাদের বলছে ভয় ইন, দিয়ে পুলিশ বা এজেন্সিকে দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে৷ তারা একটু শিক্ষা নিন, অভিষেক অনেক খারাপ আপনাদের কাছে, বাহানা হয়ে গেছে ওটা ।’ তিনি বলেন,’অভিষেকের বউ যদি দেড় বছরের বাচ্চাকে নিয়ে সিবিআই এর অফিসে সাক্ষী দিতে যেতে পারে, ডেখে পাঠানো হয়েছিল, তখন আপনাদের মনে নেই ? আজকে আমি যখন ফেসবুক করছি তখনো তাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। ২৫-৩০ টা কেস দেওয়া হয়েছে । সেটা সহ্য করছে । একটুকু সেটিং করে নিলে সেটা রিলিফ হতে পারতো ।’
মমতা বিদ্রোহীদের উদ্দেশ্যে বলেন,’আজকে আপনারা বাহানা দেখিয়ে বলছেন অভিষেক হচ্ছে আপনাদের আয়না। দিয়ে আপনারা চলে যাচ্ছেন । এটা হচ্ছে আপনাদের বাহানা।’ এরপর তিনি অভিষেক ব্যানার্জিকে ক্লিনচিট দিয়ে বলেন, ‘অভিষেকের সব অন্যায় ক্ষমা হয়ে গেছে, যদি আপনাদের চোখে কোন অন্যায় ও করে থাকে । সে আজকের লড়ে যাচ্ছে বাঘের মত । এরাই লড়বে । তার কারণ এরা আগামী দিন ৫০ বছর রাজনীতি করবে । আর আমাকে নিয়ে আপনারা যাই ভাবুন, আমার এজ নিয়ে আপনাদের চিন্তা করতে হবে না ।’
শাসকদলকে নিশানা করে মমতা বলেন,’বিজেপির নিজস্ব কোনও সংগঠন নেই। তারা পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে আমাদের সক্রিয় কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছে। একটাই কথা বলা হচ্ছে— হয় ওদের কোলে গিয়ে দোলো, না হলে জেলে যাও।’ দলে যে একাংশ বেইমানি করেছে, তা নির্দ্বিধায় স্বীকার করে নিয়ে বাংলার মানুষের কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চান তিনি। তাঁর কথায়,’যাঁদের আমরা আমাদের প্রতীকে জিতিয়েছিলাম, তাঁদের অনেকেরই অনেক ‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ ছিল, যা আমার আগে জানা ছিল না। আজ যাঁরা এজেন্সির ভয়ে বিজেপির ‘ওয়াশিং মেশিনে’ গিয়ে সাধু সাজছেন, তাঁদের চলে যেতে দিন। বুথ, ব্লক ও জেলার যে কর্মীরা দলের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাঁরাই আমার আসল সোনার খনি।’।
