প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,০৭ আগষ্ট : তৃণমূল কংগ্রেস জমানার আর এক কীর্তি সামনে এলো । বিলি না করে পঞ্চায়েত অফিসের একটি ঘরে স্তূপীকৃত করে ফেলে রাখা ছিল উপভোক্তাদের এসসি-এসটি সার্টিফিকেট, ডিজিটাল রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড ও জব কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র । ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের কালনা ২ ব্লকের বড় ধামাস গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের । বিষয়টি জানাজানি হতেই আজ শুক্রবার পঞ্চায়েতে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দার । খবর পেয়ে কালনা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে । পুলিশ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে ওই ঘরটি সিল করে দিয়েছে । তৃণমূল শাসিত এই পঞ্চায়েতের কর্মকর্তারা কি উদ্দেশ্যে এহেন কাজ করেছিল, এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে । ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ।
জানা গিয়েছে,২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের ধামাস গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতে বোর্ড গঠন করে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ পঞ্চায়েতে অনিয়ম নিয়ে বিস্তর ক্ষোভ ছিল এলাকায় । তবে তৃণমূলের দুর্বৃত্ত বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি । বিগত বিধানসভার ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর সাধারণ মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে সরব হতে শুরু করে । এলাকার কয়েকজন আবাস যোজনার উপভোক্তাদের তালিকা দেখতে এদিন পঞ্চায়েত অফিসে যান । তখনই তাঁদের নজরে আসে পঞ্চায়েত অফিসের একটি ঘরে স্তূপিকৃত হয়ে পড়ে আছে উপভোক্তাদের এসসি- এসটি সার্টিফিকেট,ভোটার কার্ড, ডিজিটাল রেশন কার্ড ও জব কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি। এই খবর চাউর হতেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান মুনমুন বাগ ও আধিকারিকরা যদিও দাবি করেছেন,“অনেক কার্ডে নামের বানান ভুল ছিল, আবার কিছু ছিল ডুপ্লিকেট। সেই কারণেই সেগুলি বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।“ যদিও প্রধানের এই দাবি মনে নিতে পারছে না এলাকার বাসিন্দারা । তাঁদের অভিযোগ করেন, ‘এলাকার বহু মানুষ ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত রয়ে আছেন ।তাদের সরকারী পরিষেবা পাবার জন্য যে সব কার্ড ও নথি দরকার সেইসব কিছু যে ওই স্তূপে নেই ,সেটার গ্যারান্টি কি প্রধান দিতে পারবেন?
এক বাসিন্দার বলেন, “ আমি বিজেপি করি।১৫ বছর ধরে আমি রেশন কার্ড পাইনি। এখানে এসে তো দেখছি বহু রেশন কার্ড পড়ে রয়েছে। তার মধ্যে আমার রেশন কার্ডও হয়তো রয়ে আছে !” তাঁর আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বড় ধামাস পঞ্চায়েতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। সেই দুর্নীতি ধামাচাপা দিয়ে রাখতেই হয়তো বহু সরকারি নথি সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি।
এলাকাবাসী এইসব অভিযোগ তোলার সময়েই পঞ্চায়েত প্রধান মুনমুন বাগ দাবি করে বসেন,তিনি
প্রধান পদে থাকলেও সব সিদ্ধান্ত তাঁর হাতে ছিল না। ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি প্রণব রায়ের নির্দেশেই অধিকাংশ পঞ্চায়েতের কাজ পরিচালিত হত।” পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যকে এই কেন্দ্র করে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। জানা গিয়েছে রাজ্যে পালা বদলের পর দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে পরপর দু’বার গ্রেপ্তার হন প্রণব রায়।।
