এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২৮ আগস্ট : রংপুরে হিন্দু পরিবারকে নরসংহারের ঘটনার বাংলাদেশ জুড়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা সামনে আসছে । এবারে বাংলাদেশের নোয়াখালীতে বাড়ির বাইরে তালা লাগিয়ে দিয়ে একটি হিন্দু পরিবারকে গৃহবন্দী করে রাখার খবর পাওয়া গেছে । ঘটনাটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৮ নম্বর সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার । স্থানীয় বাসিন্দা পাননাথ দাসের বাড়ির দরজা বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে । এত ফলে ঘরের ভেতরে পাননাথ দাসের স্ত্রী ও তার দুই নাবালিকা মেয়ে আটকা পড়ে আছেন ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে, এমসিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে রয়েছে পাননাথ দাসের বাড়ি । গতকাল রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ পরিবারের কেউ বেরুতে গিয়ে দেখেন বাইরে থেকে তালা লাগানো রয়েছে । ঘরের ভেতরে আটকা পড়ে যান পাননাথ দাসের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে । তারা দরজা খোলার বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন । বের হতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তারা এবং কান্নাকাটি শুরু করেন । তাদের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে তারা বাইরে থেকে লাগানো তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে থাকা তিনজনকে বের করে আনেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে একটি পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবি, এটি কোনো বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়,বরঞ্চ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করার জন্য এসব ঘটানো হচ্ছে ।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হাতিয়া জন্মাষ্টমী পরিষদ, হাতিয়া উপজেলা বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ এবং পূজা পরিষদ। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় হিন্দুদের দাবি, প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করুক এবং ওই পরিবারের নিরাপত্তা নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করুক ।।
