এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুম্বাই,২৮ আগস্ট : বুধবার রাতে (২৬শে আগস্ট) মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের পারেল -চিঞ্চপোকলি এলাকায় ঈদ মিলাদ-উন-নবীর একটি মিছিল চলাকালে একদল মুসলিম জনতা হিন্দুদের ওপর হামলা চালালে, উস্কানিমূলক স্লোগান দিলে এবং পোস্টার ছিঁড়ে ফেললে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রাপ্ত প্রতিবেদন অনুসারে, পারেল ও চিঞ্চপোকলি এলাকার মধ্যবর্তী লক্ষ্মী কটেজ ভবনের কাছে মিছিলটি যাওয়ার সময় এই ঘটনাটি ঘটে। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় দিয়ে যা শুরু হয়েছিল, তা শীঘ্রই সহিংস সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়াছুড়িতে রূপ নেয়। পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে বলপ্রয়োগও করতে হয়েছিল। পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয়, সেজন্য বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। পরে, যুগ্ম সিপি (আইন ও শৃঙ্খলা) ডঃ মনোজ শর্মা এক বিবৃতিতে জানান যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তিনি জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। যুগ্ম সিপি শর্মা বলেন,’এখন আর এমন কোনো সমস্যা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্ত। দয়া করে গুজবে কান দেবেন না।’
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া রোধ করতে পুলিশ অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে পারেল-চিঞ্চপোকলির দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়। সকালের মধ্যে এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে, যান চলাচল স্বাভাবিক হয় এবং দোকানপাট যথারীতি খুলে যায়।
পারেলের এক বাসিন্দার ভাষ্যমতে, ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলটি লক্ষ্মী কটেজ ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অংশগ্রহণকারী মুসলমানরা পতাকা হাতে বাইকে চড়ে এবং উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে। এর ফলে মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সহিংস সংঘর্ষ ও পাথর ছোড়ার পর্যায়ে পৌঁছায়।
এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, মুসলমানরা লক্ষ্মী কটেজ ভবনের কাছে ব্যানার ও পোস্টারও ছিঁড়ে ফেলে, এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং চিকিৎসার জন্য তাঁদের পারেলের কেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেছে।
মুম্বাইয়ের মাজগাঁও এলাকায় একটি গণপতি শোভাযাত্রায় ডিম ছোড়ার ঘটনার চার দিন পর এই ঘটনাটি ঘটল, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দানিশ শের খান নামে এক ডেলিভারি বয়কে গ্রেপ্তার করেছে। দানিশ পুলিশকে জানিয়েছে যে শোভাযাত্রা চলাকালীন ফাটানো বাজির ধোঁয়ায় ‘বিরক্ত’ হয়ে সে গণপতি শোভাযাত্রায় ডিম ছুড়েছিল।।
