এইদিন ওয়েবডেস্ক,আসানসোল,০২ জুলাই : মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে । যেকারণে বহু পরিবারকে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে । তবে রাজ্যে সাম্প্রতিক পালাবদলের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই সমস্ত কল কারখানার মালিকদের চোখে এখন আবার নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে । এমনই একটি কারখানা হল আসানসোলের কন্যাপুর শিল্প তালুকের ঐতিহাসিক “পুনম” বিস্কুট কারখানাটি । তৃণমূলের আমলে তোলাবাজি আর ইউনিয়ন বাজির দাপটে কারখানাটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন কর্তৃপক্ষ । কিন্তু এখন রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার আসার পর শিল্প ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করায় ফের ওই কারখানা খুলতে উদ্যোগী হয়েছেন তারা ।
বাম জমানায় ১৯৯৪ সালে আসানসোলের কন্যাপুর শিল্প তালুকে আসানসোল ইন্ডাস্ট্রিজ চেম্বার অফ কমার্সের উপদেষ্টা তথা শিল্পপতি প্রেমচাঁদ গোয়েলের উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল একটি আধুনিক বিস্কুট কারখানা। প্রায় ৩০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হওয়া এই কারখানাটি প্রথম ১২ বছর অত্যন্ত সফলভাবে চলেছিল। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের জমানায় শুরু হয় চরম তোলাবাজি আর ইউনিয়নের জুলুমবাজি। মালিক প্রেমচাঁদ গোয়েল জানান,পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কারখানার সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্যে জোর করে দুটি বিরোধী ইউনিয়ন ঢুকে পড়ে। যেকারণে প্লান্টে যখন মাল তৈরি হলেও,প্যাকিং সেকশনের কর্মীরা কাজ বন্ধ করে রাখত । এর ফলে বিপুল পরিমান উৎপাদিত পণ্য দিনের পর দিন নষ্ট হত৷ এতে বিরাট লোকসানের মুখে পড়তে । প্রায় দেড় বছর এই বিপুল লোকসানে কারখানা চালিয়ে শেষে তিনি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন । তার অভিযোগ যে,তিনি তৎকালীন শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটকের কাছে এনিয়ে তদ্বিরও করেছিলেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি । এমনকি লেবার অফিসাররাও তৎকালীন শাসকদলের প্রভাবেই কাজ করেছিল । পরে কারখানা বন্ধ থাকায় বহুমূল্যের সব যন্ত্রপাতি চুরি হয়ে যায়।
উল্লেখ্য,দিন কয়েক আগেই বিধানসভায় গুন্ডাদমন আইন পাশ করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের বিজেপি সরকার । এই বিল নিয়ে তৃণমূল, সিপিএম সহ বিরোধিতা করলেও বন্ধ হয়ে যাওয়া কল কারখানার মালিকরা আশার আলো দেখছেন । দুর্বৃত্তায়ন বন্ধে রাজ্যের বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপে শিল্পপতি প্রেমচাঁদ গোয়েল এতটা খুশি যে, তিনি বলেছেন,’আমরা তো এই বন্ধ কারখানা আবার নতুন করে খুলবোই, সেই সঙ্গে এলাকার অন্যান্য যুব সম্প্রদায়কেও নতুন শিল্প গড়তে উৎসাহিত করব।’
জানা গেছে,নতুন সরকারের সদিচ্ছা ও আশ্বাসে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে কারখানাটি আবার উৎপাদনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বন্ধ কারখানা পুনরায় খোলার এই খবরে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক পরিবারগুলির চোখে এখন নতুন করে বাঁচার ও কর্মসংস্থানের আশার আলো দেখা দিয়েছে।।
