এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,২৪ জুলাই : শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের জন্য জবাবদিহিতা, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ২৬ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক শুক্রবার তাঁর অনশন শেষ করেছেন।কেন্দ্রীয় সরকার তাদের মূল দাবিগুলোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ার পরেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে,ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ঘোষণা করেছে যে শুধুমাত্র ওয়াংচুকের সমর্থনে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদই চলবে এবং ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই সংগ্রাম থামবে না।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন। এই সময় তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেন।পরে, লাদাখের সর্বোচ্চ সংস্থার শীর্ষ নেতাদের, ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে তিনি তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভাঙেন।
অনশন শেষ করার পর ওয়াংচুক এক্স-এ লেখেন, “আমি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা, ডঃ জিতেন্দ্র সিং এবং লাদাখ অ্যাপেক্স বডির সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে আমার ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছি। অনেক শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এবং দেশে যেকোনো ধরনের হিংসা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিওতে সমস্ত বিবরণ জানাব। ততক্ষণ পর্যন্ত, কোনো ধরনের হিংসা হতে দেবেন না ।’ ওয়াংচুক বলেছেন যে, তাঁর অনশন চলাকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জনেরও বেশি সাংসদ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন অথবা অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে তাঁকে চিঠি লিখেছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদীও ওয়াংচুকের অনশন ভাঙাকে স্বাগত জানিয়েছেন। টুইটটির প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “সোনমজির উচিত ডাক্তারের পরামর্শ কঠোরভাবে মেনে চলা এবং তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্ম পুনরায় শুরু করা। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি দ্রুত স্বাস্থ্য ফিরে পান এবং হারানো ওজনও পুনরুদ্ধার করেন।”
মেদান্তা হাসপাতালে ওয়াংচুকের উপস্থিতিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেছেন, যাঁরা যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং ২০ জুলাই ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।এদিকে তিনি বলেন, সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার সংস্কার নিয়ে সংসদে বিতর্ক আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।নাড্ডা বলেছেন যে, সাম্প্রতিক নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় যেসব ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছে, তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে।
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের সঙ্গে বিরোধে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অনশন শেষ হলেও তাদের প্রতিবাদ থামবে না।সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে টুইটারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “সোনম স্যার তাঁর ২৬ দিনের অনশন শেষ করায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি। দেশের ভালোর জন্য নিজের জীবন বিপন্ন করার এই ত্যাগের কাছে আমরা চিরঋণী থাকব।” তবে তিনি বলেছেন যে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।
সিজেপি প্রধানত কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের স্বচ্ছ তদন্ত, শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।
ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে সোনম ওয়াংচুক ২৮শে জুন যন্তর মন্তরে শুরু হওয়া সিজেপি -নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে যোগ দেন। এরপর তিনি অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন এবং ২৬ দিনে প্রায় ১১ কেজি ওজন কমান। ২০শে জুলাই ‘সংসদ চলো’ বিক্ষোভ চলাকালে, পুলিশের পদক্ষেপ সত্ত্বেও তিনি ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আহ্বান জানান।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি পুলিশ ১৮ই জুলাই তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। তবে, তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেন যে তাঁকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটি সরকারি হাসপাতালে রাখা হয়েছিল এবং এই অভিযোগে তিনি দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে তাঁকে গুড়গাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যান এবং অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর তাঁর ২৬ দিনের অনশন শেষ করেন।।

