এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৭ সেপ্টেম্বর : মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জের ধুলিয়ানের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত মণ্ডলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কঠোর পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । কর্তব্যে অবহেলার জন্য সামসেরগঞ্জ থানার এসআই (SI) শরিফুল আলম এবং ওই থানার অন্তর্গত ধুলিয়ান ফাঁড়ির এএসআই (ASI) সুমন্ত কুমার দাসকে সাসপেন্ড করলেন তিনি৷ পাশাপাশি ফারাক্কার এসডিপিও শেখ সামসুদ্দিন-কে পানিশমেন্ট ট্রান্সফার এবং সামসেরগঞ্জের আইসি সুব্রত ঘোষকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে ৷ আজ সোমবার বিকেলে নবান্নের সভাঘরে স্বরাষ্ট্র সচিব ও ডিজিপির উপস্থিতিতে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী । এছাড়া, জঙ্গিপুরের এসপি সুরিন্দর সিংকে শোকজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি । পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার সিআইডি-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সামসেরগঞ্জের ধুলিয়ানের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটা খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে । সেখানে সুজিত মন্ডল বলে এক ব্যক্তি ২৮ আগস্ট নিখোঁজ হয়ে যান৷ পরে বীভৎস অবস্থায় তাকে পাওয়া যায় । তার শরীরকে টুকরো টুকরো করা হয়েছিল পশু কাটার অস্ত্র দিয়ে,ঠিক হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের মত ।’
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ঘটনাই গ্রেফতার করা হয়েছে সামিউল শেখ, তাজকিরা বিবি ও জনি শেখকে । এই তিনজন মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ইস্যুটা অন্যরকম কিন্তু বিষয়টা খুব মর্মান্তিক । যে নিষ্ঠুরতার সঙ্গে সুজিত মন্ডল কে খুন করা হয়েছে কাঁচা হল গোবিন্দ দাস চন্দন দাসের কথা মনে তাতে হরগোবিন্দ দাস-চন্দন দাসের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে আমাদের । আমরা এটা সরকারের পক্ষ থেকে খুব সিরিয়াসলি নিয়েছি । স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজিপি ব্যক্তিগত ভাবে তদন্ত করেছেন । গতকাল শেষ বেলায় আমরা বিষয়টা জানতে পারি । আমাদের নজরে খুব দেরিতে এসেছে । পুলিশের তরফে একটা বড় ত্রুটি । এবং মৃতের স্ত্রী সুমনা মন্ডল সঠিক সময়ে খবর দিলেও ওখানকার পুলিশ ফাঁড়ি প্রথমে কোন ব্যবস্থা নেয়নি । আমরা এই কেসটা পশ্চিমবঙ্গ সিআইডিতে হস্তান্তর করছি । ইতিমধ্যে তিনজন গ্রেপ্তার হয়েছে । তবে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না, পুলিশ হেফাজতের মধ্যেই আপনাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা দিতে হবে । এটা আমাদের লক্ষ্য থাকবে ।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন,মৃতের স্ত্রী যদি ন্যূনতম যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন তাহলে তাকে হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হবে৷ সেই সাথে মৃতের পরিবারকে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা সহায়তার ঘোষণা করেন তিনি।
গত ২৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৮ টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হন সুজিত মণ্ডল । এরপর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান । ওইদিন সন্ধ্যায় সামসেরগঞ্জ থানায় নিখোঁজ ডাইরি করে পরিবার । পরিবারের দাবি, তাদের কাছে মুক্তিপণ বাবদ ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ । বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে থানায় জানানো হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ । প্রায় কয়েক দিন নিখোঁজ থাকার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে ফরাক্কার বল্লালপুর ফিডার ক্যানেল ঘাট থেকে তাঁর টুকরো টুকরো দেহ উদ্ধার করা হয়।
শুধু নিহতের পরিবারই নয়,সামরেসগঞ্জের পুলিশের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভে প্রকাশ করেছেন জঙ্গিপুরের বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখার্জি । আজ তিনি নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে ধুলিয়ান পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিহতের বাড়ি যান । পরে তিনি মিডিয়ার ক্যামেরার সামনে কেঁদে ফেলেন। চিত্ত মুখার্জি বলেন,’ সুজিত মণ্ডল আমাদের দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন । বলা হচ্ছে তার একটা পা টুকরো টুকরো করা হয়েছে ।’ তিনি বলেন,’ধুলিয়ানে বারবার হিন্দু খুন হচ্ছে । কিন্তু বিজেপির যুগে যে এরকম দেখব কখনো ভাবি নি । আমি পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ায় খুব একটা সন্তুষ্ট নই । তবে এই বিষয়ে আমি মিডিয়ার সামনে মুখ খুলবো না।’।
