রাহুল রায়,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),০৭ সেপ্টেম্বর : শিক্ষকতা শুধু পেশা নয়, সমাজ গড়ারও অন্যতম মাধ্যম—এই ভাবনাকেই বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার রাজুয়া গ্রামের শিক্ষক ফিরোজ সেখ। বর্তমান সময়ে শিক্ষাকে ঘিরে যখন ব্যয়ের চাপ ক্রমশ বাড়ছে, তখন সম্পূর্ণ বিনাপয়সায় দুঃস্থ ও প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়ে অনন্য নজির গড়েছেন তিনি।
চুড়পুনী পশ্চিমপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ সেখ প্রায় চার বছর আগে নিজের বাড়িতেই গড়ে তোলেন ‘আমাদের পাঠশালা’। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত পড়াশোনা করে। অধিকাংশই দুঃস্থ পরিবারের সন্তান। তাদের কাছ থেকে কোনও পারিশ্রমিক নেন না তিনি।
তবে তাঁর উদ্যোগ শুধু পড়াশোনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পড়ুয়াদের পরিবেশ সচেতনতা, গাছের পরিচর্যা এবং প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসার পাঠও দেন ফিরোজ সেখ। গাছপ্রেমী এই শিক্ষক বাড়িতে বিভিন্ন গাছের চারা তৈরি করেন এবং পড়ুয়াদের মধ্যেও শবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেন। তাঁর এই কাজে স্ত্রী ফৈজী সুলতানাও সহযোগিতা করেন।ফিরোজ সেখ জানান,পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের প্রতিভা বিকাশে কবিতা, নৃত্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয় ‘আমাদের পাঠশালা’-য়।
শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রবিবার সন্ধ্যায় ‘আমাদের পাঠশালা’র উদ্যোগে এবং ‘কাটোয়া গাছ গ্রুপ’-এর সহযোগিতায় তার বাড়ির ছাদে আয়োজিত হয় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শুরুতে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে পড়ুয়াদের কবিতা, নৃত্য-সহ বিভিন্ন পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি ও অভিভাবকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাজিগ্রাম বিশ্বেশ্বরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার সাহা, শিক্ষক জাকীর হোসেন খান, মোল্লা আব্দুল আলীম, সেলিনা বেগম, জাহিরুল ইসলাম, জয়দীপ মুখার্জী-সহ আরও অনেকে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন শেখ মুস্তাফা ও শিবনাথ মিস্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অতিথিদের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষক দিবস উদযাপনের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও তুলে ধরা হয়।
ফিরোজ সেখের কথায়, অর্থের অভাবে কোনও মেধাবী ও দুঃস্থ পড়ুয়া যেন শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটাই তাঁর মূল লক্ষ্য। পড়ুয়ারা ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হয়ে সমাজের কাজে আসুক—এই স্বপ্ন নিয়েই গত চার বছর ধরে তাঁর এই পথচলা। তাঁর এই উদ্যোগে প্রশংসা জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দা ও অভিভাবকরাও।।
