নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে কথিত ছাত্র আন্দোলনের নামে দিল্লির যন্তর মন্তরে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে, তার পিছনে বিদেশী শক্তির প্রত্যক্ষ মদতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে । আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল-মণীষ সিসোদিয়া-যোগেন্দ্র যাদবদের তৈরি “ককরোচ জনতা পার্টি”র শুরু করা এই কথিত আন্দোলনে ক্রমশ কংগ্রেস,বামপন্থী ও উগ্রবামপন্থী,সমাজবাদ পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস ও ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির পাশাপাশি মার্কিন ডিপ স্টেট ও চীনের মদতপুষ্ট এনজিও-গুলি অংশ নেয় । উদ্দেশ্য, গনঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশের কায়দায় ক্ষমতা থেকে অনৈতিকভাবে সরানো । অবশেষে এখন দিল্লি পুলিশ ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে । “ককরোচ জনতা পার্টি”র পাশ থেকে ভিড় ক্রমশ ফাঁকা হতে শুরু করেছে ।
কিন্তু মার্কিন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র শ্রীলঙ্কা,নেপাল ও বাংলাদেশে সফল হলেও ভারতে কেন হল না ? এই বিষয়ে সাহাদাত আলি খান ওরফে ডঃ আলি খান নামে এক বাংলাদেশি লেখক তার ফেসবুক পেজে (https://www.facebook.com/share/1ECstEREWc/) বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন । তিনি মনে করছেন, নরেন্দ্র মোদী হলেন হিন্দুদের সর্বাধিনায়ক, একজন অবতার, ওনার পতন কখনোই সম্ভব নয় । সেই সাথে ইসলামি বিশ্বে নরেন্দ্র মোদীর মত জনপ্রিয় নেতা না থাকায় তিনি হতাশাও প্রকাশ করেছেন । সাহাদাত আলি খানের পোস্টটি নিচে তুলে ধরা হল :
নরেন্দ্র মোদীর কখনোই পতন সম্ভব না,কারণ-বিজেপি,মোদি গণতান্ত্রিক ভাবেই নির্বাচিত।নরেন্দ্র মোদি কোনদিন আন্দোলনকারীদের উপর ম্যাস শুটিং বা গুলি চালাবেনা। কোন হিন্দুর উপর তো কোনদিনও না। উনি নিজ জাতির প্রতি নিবেদিতপ্রাণ।
-ভারত ২৮ টি অঙ্গরাজ্যে বিভক্ত অতিকায় প্রদেশসমষ্টি রাষ্ট্র,এরকম রাষ্ট্রে অভ্যুত্থান অসম্ভব।
-ভারতে গণভ্যুত্থানের ইতিহাস নাই।কোন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এতবড় ফেডারেশনের সরকারের পতন হবেনা। এছাড়া,ভারতবাসী কোনদিন এমন একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করবে না,যিনি তাদের ইচ্ছারই প্রতিরূপ,যিনি তাদের সর্বাধিনায়ক।সর্বভারতীয় জনতা মুর্খ নয়।
সর্বভারতের ৭০% মানুষ মোদিকে সমর্থন করে,সংখ্যায় তা ১০০ কোটির কাছাকাছি,প্রাপ্তবয়স্ক ধরলে তা ৮০ কোটিই ধরা যাক। আর কেনই বা করবেনা সমর্থন? যে নেতা পুরো হিন্দুজাতিকে একীভূত করতে পেরেছে,যেটা শ্যামাপ্রসাদ,সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল,
গোলওয়াকার,সাভারকাররা শুধুমাত্র তত্ত্ব দিয়ে বুঝিয়ে গিয়েছিলেন,মোদির সরকার সেটার সফল বাস্তবায়ন করিয়েছে। বাকি ৩০-৪০ কোটির না সমর্থনে ৮০-১০০ কোটির কাছাকাছির সরকারের পতন অসম্ভব।নরেন্দ্র মোদি সমগ্র হিন্দুজাতির অবিসংবাদিত একক নেতা। এমনকি ইন্দিরা গান্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছেন।
যদি ভারতকে কুরুক্ষেত্র মনে করা হয়,নরেন্দ্র মোদি সেখানে বেশিরভাগ ভারতীয়দের কাছে “বিশ্বরূপধারী অবতার”।এবং সেটাই কি হওয়া উচিত নয়?উনি নিজ জাতির জন্য নিবেদিত প্রাণ।হ্যা,ওনার কারণে আমাদের মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর কষ্ট নেমে এসেছে,যেটা অবিলম্বে বন্ধ করা জরুরি।
কিন্তু উনি নিজ হিন্দু জাতির উপর একটা আঁচও আসতে দেয়নি,দেবেনা।
বিপরীতে বিভিন্ন মুসলমান রাষ্ট্রপ্রধানরা মুসলমানদেরই উপর গুলি চালায়,বিভিন্ন ইসলামিস্টদের হাতে মুসলমানরাই নিপীড়িত। এক আফগানিস্তানেই নারীদের কি দশা করে রেখেছে। এমনকি শেখ হাসিনার মত “অইসলামপন্থি” শাসকদের হাতও নিজ সম্প্রদায়ের লোকেদের রক্তেই রঞ্জিত। ক্ষমতাতেও হাসিনা গেছে ভোট চুরি করে। বিপরীতে,মোদির ভোট চুরির দরকার নাই,তার জাতি এমনিই তাকে বারবার নির্বাচিত করেছে।
জীবনে দেখেছেন কোন হিন্দু নারীকে হিন্দু নেতারা পোশাকের জন্য চাবুক মেরেছে?গুলি করেছে?
পড়াশোনা বন্ধ করায় দিয়েছে? ড্রামস বাজানোর কারণে হিন্দু মেয়ের জীবন অতিষ্ঠ করতে?যেগুলা আফগানিস্তানে হয়,যেগুলাকে সঠিক মনে করে একপাল মুর্খ তৌহিদি গং।
জীবনে দেখেছেন কোন হিন্দু নেতা আর্ট করবার জন্য,গান করবার জন্য ডান্ডা মেরেছে?
তাদের এক বলিউড কই,আর আমরা কই?ওইরকম মোটাবুদ্ধির লোক তারা নয়। বরং,তারা তাদের নারীদের জনশক্তি বানিয়েছে।তারা চাণক্যের নীতি মানে,তাদের বুদ্ধির কাছে আমাদের লোকেরা নস্যির ডিব্বা।
নরেন্দ্র মোদি হল আমার সেই প্রতিপক্ষ,যেই প্রতিপক্ষের দূরদর্শিতা প্রশংসা করতে আমি বাধ্য,
কারণ,আমিও চাই যেন মুসলমানদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদির মত এমন এক নেতা হোক,যে কিনা সর্বমুসলমানকে একত্রিত করে দিতে পারতো,আফসোস,সেটা দিবাস্বপ্ন।
বিজেপির অধীনে ভারত ব্যাপক প্রভাবশালি শক্তিতে পরিণত হয়েছে,সামরিক,অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রে সে আজকে এশিয়ার মহাশক্তি। ইনফ্রাস্ট্রাকচার, আইটি,প্রোগ্রামিং এ তারা অসাধ্যকে সাধন করেছে,কতগুলা পলিটিকাল লবি তাদের হাতে এটা কল্পনার বাইরে।ওই তাদের দু চারটে মুর্খ লোক গোবর গোমুত্র নিয়ে বাড়াবাড়ি করে এর মানে এই না যে তারা গোবরখোর। তাদের সফলতা,তাদের বুদ্ধি,বিশ্বরাজনীতি আর জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের চাইতে তারা বহুগুণে এগিয়ে।
তাদের স্পেস সেন্টারের সমকক্ষ কোনকিছু আমাদের সম্মিলিত শক্তির হাতেও নাই।
তারা হিন্দুত্ববাদিতা করে একদিকে,আরেকদিকে তৈরি করে সুন্দর পিচাইয়ের মত গুগল সিইও, জয়শংকরের মত তুখোড় ডিপ্লোম্যাট,তুলসি গ্যাবার্ডের মত পাওয়ারফুল প্রক্সি।
আমরা আমাদের দেশে কি বানিয়েছি?বিক্রমপুরি, মহিবুল্লাহ,আরেফিন শক্তি,মাদানি গং? ফাতাহ কম্ব্যাট গং?কওমি গং? মাথার থেকে উড়না নামলেই যারা মনে করে ভূমিকম্প হয়! ইরান,পাকিস্তান,তুরস্কও বিজ্ঞানী বানিয়েছে,আমরা আমাদের দেশে বানিয়েছি একপাল জম্বি।
নরেন্দ্র মোদি নিজ হিন্দু জাতির সর্বাধিনায়ক, সেনিজ দেশের হিন্দু জনগণের সাথে সরকারের সম্পর্ক আত্মিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।সকল ভিন্নমতের,ভিন্নপথের হিন্দুকে সে একত্রিত করেছে।
কে শৈব,কে শাক্ত,কে গাণপত্য,কে স্মার্ত,কে মতুয়া,কেগৌড়ীয়,কে ভিগান,কে নন ভিগান,কে সেকুলার হিন্দু,কে হিন্দু নাস্তিক,কে ফেমিনিস্ট হিন্দু এসবের মাঝে কোন ভেদাভেদ নাই তাদের।
আমাদের মত একশো একটা ফেরকা করেনা তারা,একনামাযে দাড়াইতে গিয়ে হাত বাধার নিয়ম নিয়ে যুদ্ধ বাধানোর দশা তারা করেনা,একদল আরেকদলকে বাতিল,তাকফির করে দেয়না,কাড়াকাড়ি করেনা,মোরাল পুলিসিং করেনা,তারা
নিজ ধর্মের লোকেদের “মুরতাদ ফুরতাদ” বলেনা,তাসে যেমনই হোক,যাই করুক,যা ইচ্ছা বলুক।
নিজ সম্প্রদায়ের কারো রক্ত তারা ঝড়ায় না।
এবং এটাই কি হওয়া উচিত নয়?
বিপরীতে আমাদের কথা বললে শরমে পড়বো। আমরা নিজেদেরও হইতে পারিনি,অন্যেরও না।
তারপরেও মানবিক কারণে বিশ্বের মানবিক লোকগুলা আমাদের দুঃখ দুর্দশায় সমব্যথী হয়,ব্যর্থতা আমাদের।
চরমতম হিন্দুত্ববাদিটাও(যেমন যোগী আদিত্যনাথ) কোন হিন্দুকে পোশাকের কারণে মোরাল পুলিসিং করে না,খেলা দেখা বন্ধ করায় দেয় না,সিনেমা, গান বন্ধ করায় দেয় না,নিজ জাতির কারো জীবন অতিষ্ঠ করে ফেলেনা। এককথায় জাতিরাষ্ট্র, একজাতি, একদেশের উৎকৃষ্ট সফল উদাহরণ তার দেশ।
বিপরীতে,ইসলামপন্থিরা এবং বিভিন্ন ইসলামি রাষ্ট্রের শাসকদের কথা বললে লজ্জায় শরমে মরে যাবার দশা হবে। ভিন্ন মতের মুসলমান,লিবারেল মডার্ন সেকুলার মুসলমানদের ধারণ করার মত কয়টা ইসলামি লিডার আছে?কয়টা? কায়েদ এ আযামের পর আর কেউ আসেনি এই উপমহাদেশে।
ভারতীয় বৃহত হিন্দুগোষ্ঠী ভাগ্যবান,যে তারা নরেন্দ্র মোদির মত প্রধানমন্ত্রী পেয়েছে,যিনি তাদের তথা সকল হিন্দুর সার্থ রক্ষা করে।আমরা দুর্ভাগ্যবান,আমাদের এমন কোন একক নেতা নাই সারাবিশ্বে।।
