এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,২১ আগস্ট : প্রবাসী স্বামী ও ২ নাবালক সন্তানকে ফেলে ভিন ধর্মের প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের স্মৃতি বিশ্বাস নামে এক মহিলা । নিজের ধর্ম ত্যাগ করে ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর ছোহা শেখ ধারন করে প্রেমিক সাজ্জাদ শেখের বিয়ে করেছিলেন । কিন্তু ধর্মান্তরিত হয়ে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার অল্প কিছুদিন পরই তাঁর স্বপ্নের সংসার পরিণত হয় নারকীয় যন্ত্রণায়। যৌতুক ও টাকার দাবিতে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এখন স্বামী সাজ্জাদ শেখের হাত থেকে যেকোনো মূল্যে মুক্তি চান তিনি । সংবাদমাধ্যমকে ওই মহিলা বলেছেন, ‘আমার তো সব শেষ হয়ে গেছে । এখন আমি ওর হাত থেকে মুক্তি চাই । আমি পথে পথে ভিক্ষা করে নিজের পেট চালাবো ।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের মিলন শেখের ছেলে সাজ্জাদ শেখের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন কোটালীপাড়ার দুই সন্তানের জননী স্মৃতি বিশ্বাস। ভালোবাসার টানে নিজের ধর্মাচরণ ও পরিবার ছেড়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর নাম রাখা হয় ছোহা শেখ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁর পারিবারিক জীবনে নেমে আসে চরম অশান্তি। উচ্চশিক্ষিত এই নারী ভেবেছিলেন ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে সুখে দিন কাটাবেন, কিন্তু যৌতুকের দাবিতে নিয়মিত স্বামীর পাশবিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
দ্বিতীয় স্বামীর এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ছোহা শেখ তাঁর স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক ও মানসিক চাপে বিপর্যস্ত এই নারী নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষা এবং বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা ভালোবাসার এই পরিণতি তাঁকে জীবনের কঠিন মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। সব হারিয়ে ও নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে ছোহা শেখ এখন সাজ্জাদের সংসার ছেড়ে স্বাভাবিক স্বাধীন জীবন ফিরে পেতে চান।।
