এইদিন বিনোদন ডেস্ক,২১ আগস্ট : কেন্দ্র সরকার যখন থেকে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গান গাওয়াকে আইনে পরিণত করেছে,তখন থেকেই দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি কংগ্রেস ও বামপন্থীদের প্রবল বিরোধিতার মুখে পড়তে হচ্ছে । খোদ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান সোনিয়া গাঁধিকে প্রকাশ্য মঞ্চে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গানের বিরোধিতা করতে দেখা গেছে । এবারে প্রয়াত প্রাক্তন ক্রিকেটর মনসুর আলী খান পতৌদির স্ত্রী তথা অভিনেত্রী আয়েশা সুলতানা ওরফে শর্মিলা ঠাকুরকেও সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গানের বিরোধিতা করতে দেখা গেলো ।
তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে এনিয়ে তার স্পষ্ট মতামত জানিয়েছেন৷ আয়েশা সুলতানা ওরফে শর্মিলা ঠাকুর বলেছেন,’যারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী, তাদের জন্য বন্দে মাতরম পাঠ করা কঠিন ।’ তিনি আরও বলেছেন,’বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুটি স্তবক রাখা উচিত। এটাই আমার মতামত ।’
উল্লেখ্য,শর্মিলা ঠাকুর মনসুর আলি খান পতৌদির সঙ্গে বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বেগম আয়েশা সুলতানা নাম নেন। যদিও নিজের কাজের সুবিধার্থে তিনি নতুন ইসলামি নাম ব্যবহার না করে এখনো পূর্বের নামই ব্যবহার করেন ।
এদিকে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম গানের বিরোধিতা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে প্রাক্তন অভিনেত্রীকে৷ গৌরব নামে একজন এক্স (https://x.com/i/status/20906241723 93427399) ব্যবহারকারী লিখেছেন,’মনে হচ্ছে, মুসলমানদের সংস্পর্শে এলেই সারাজীবনের জন্য তাদের মগজধোলাই হয়ে যায়। শর্মিলা খান (পূর্বতন পদবি ঠাকুর), সাইফ আলি খানের মা -“বন্দে মাতরমের শুধু প্রথম দুটি স্তবক রাখা উচিত। এটাই আমার মতামত” । “কিছু স্তবকে অনেক দেবতার পূজা করা হয়”। “অনেক ধার্মিক মানুষ আছেন যারা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন, অনেক ঈশ্বরে নয়”৷ “যারা একটি ধর্মে বিশ্বাসী, তাদের পক্ষে ‘বন্দে কালী, বন্দে দুর্গা’ বলা কঠিন” ।
রূপা মূর্তি কটাক্ষ করে বলেছেন,’আয়েশা সুলতানা, ওরফে শর্মিলা ঠাকুর, মনসুর আলী খান পতৌদির (টাইগার পতৌদি) বৈধ স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি সানন্দে তাঁর জন্মসূত্রের ধর্ম ত্যাগ করেন, কিন্তু ‘বন্দে মাতরম’ তাঁর কাছে কঠিন মনে হয়, কারণ এটি বহু দেবতার ধারণাকে সমর্থন করে।’
অন্য একজন এক্স( https://x.com/i/status/2090515781234913363) ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এটা তেমন আশ্চর্যজনক নয়। শর্মিলা ঠাকুর মনসুর আলী খান পতৌদিকে বিয়ে করার আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন, তাই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে তাঁর অস্বস্তি হয়তো অবাক করার মতো কিছু নয়। যা বিষয়টিকে বিশেষভাবে বিদ্রূপাত্মক করে তোলে তা হলো, তিনি বাঙালি ঠাকুর পরিবার থেকে এসেছেন, এমন একটি পরিবার যার দীর্ঘ হিন্দু এবং পীরলী ব্রাহ্মণ ঐতিহ্য রয়েছে। যদি কারও ‘বন্দে মাতরম’ শুনতে সমস্যা হয়, তবে তারা কান বন্ধ করে রাখতে পারেন। আর সেটাও যদি সমস্যা হয়, তবে তারা এমন দেশে চলে যেতে পারেন যেখানে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো হয় না। আমি নিশ্চিত, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যখন ‘বন্দে মাতরম’ লিখেছিলেন, তখন তিনি কখনও কল্পনাও করেননি যে একদিন একজন বাঙালি নারী, এবং তাও একজন ঠাকুর, এই গানটি নিয়ে আপত্তি তুলবেন। বিদ্রূপের হাজারবার মৃত্যু হয়েছে।’।
