এইদিন ওয়েবডেস্ক,খুলনা,২১ আগস্ট : বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির উত্থানের পর থেকে সংখ্যালঘু হিন্দুদের জীবন তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে । ঘরবাড়ি, জমিজায়গা, দোকানপাট থেকে শুরু করে হিন্দু মেয়েদের সম্ভ্রম বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়েছে । বাংলাদেশের খুলনার একটি স্কুলের দশম শ্রেণির এক হিন্দু ছাত্রীর সঙ্গে যে বর্বরতা ঘটনা সামনে এসেছে তাতে গোটা দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে । খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গাজির হাট সৈয়দ নৈয়মদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই চরম নৃশংস ও লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে । বিদ্যালয়টির দশম শ্রেণীর এক সংখ্যালঘু সনাতনী ছাত্রীকে স্কুলের শৌচাগার থেকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে । গনধর্ষণের শিকার কিশোরীটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে। রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধারের পর দ্রুত খুলনা শহরের গাজী মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার পাশে পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে অবস্থান করছেন।
নির্যাতিতা মেয়েটি সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছে, ছুটির পর সে যখন স্কুলের বাইরে এসেছিল, সেই সময় কেউ তার মাথায় সজোরে আঘাত করে । সে উল্টে পড়ে গেলে হামলাকারীরা তার চোখ ও মুখ বেঁধে দেয় । এরপর তাকে চ্যাঙদোলা করে তুলে নিয়ে যায় । তারপর একটা ঘরে নিয়ে গিয়ে তার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালানো হয় । পাশবিক অত্যাচারে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে ।
জানা গেছে,সৌভাগ্যক্রমে সেই সময় কেউ শৌচাগারে গেলে হাত-পা-মুখ বাঁধা মেয়েটিকে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে । এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । ফলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় মেয়েটি । এই বর্বরোচিত হামলা শিকার হওয়া হওয়া ওই কিশোরী এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে ।
বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের অভিযোগ,একটি স্বাধীন দেশে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদে বাঁচা ও চলাফেরার অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত হলেও, দিনশেষে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও শঙ্কার মধ্যেই জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে সেদেশের সনাতনী পরিবারগুলোকে। নিজ স্কুলের ভেতরেই যদি হিন্দু ছাত্রীদের জীবন ও সম্ভ্রম সংকটে পড়ে, সেখানে আগামী দিনগুলোতে এই ভুক্তভোগী পরিবারটি কীভাবে ভয় ও আতঙ্ক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে ? এই প্রশ্ন উঠছে । বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান হিন্দু নির্যাতনের ঘটনায় এখন তারা তীব্র অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ।।
