এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২১ আগস্ট : গতকাল (২০ আগস্ট) যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ নম্বর গেটের সামনে ছাত্র সংগঠনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের সময় শিল্পাচার্য নন্দলাল বসুর নকশা করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক বা এমব্লেমের (শতদল রিং ও তিন শিখা) একাংশ ভেঙে ফেলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ও ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বামপন্থীরা ঐতিহ্যবাহী প্রতীকটি ভাঙার দায় এবিভিপি-এর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করে । অন্যদিকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবিভিপি জানিয়েছে যে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙা অতি বাম তথা নকশালদের পরিকল্পিত চক্রান্ত । পাশাপাশি তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই ফলক ভাঙার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে পথে নামবে এবিভিপি৷
আজ শুক্রবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ দক্ষিণবঙ্গের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে : “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী ফলক ভাঙার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। ABVP-র অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ভারতীয় চেতনাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ফলকে থাকা পদ্মফুলের পাপড়ি ভারতীয় ও সনাতনী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রতি নকশালপন্থী ও অতি-বামপন্থী রাজনীতির দীর্ঘদিনের বিরূপ ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব রয়েছে। ABVP-র অভিযোগ, সেই মানসিকতা থেকেই পরিকল্পিতভাবে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে উপস্থিত জনতাকে ব্যবহার করে ঐতিহ্যবাহী ফলকটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। জনৈক অধ্যাপক রাজেশ্বর সিনহা যিনি কয়েকদিন আগে বিতর্কিত প্রশ্নপত্র করতে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছিলেন, তিনি বৃহত্তর বাম চক্রান্তের পরিকল্পিত অংশ হিসেবে এবিভিপিকে কালিমালিপ্ত করার প্রয়াস করেছেন।
ABVP-র প্রদেশ সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয়তাবাদী ভাবধারার প্রতীকগুলিকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে আনার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তারই ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা ঘটেছে।”
ABVP-র স্পষ্ট প্রশ্ন-ঐতিহ্যবাহী ফলকটি কীভাবে ভাঙল? কারা সেই সময় সেখানে উপস্থিত ছিল? কারা উপস্থিত জনতাকে উসকে দিয়েছিল? এবং কার নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের উপর আঘাত হানা হল? এই সমস্ত প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ABVP দাবি করছে-১)ফলক ভাঙার ঘটনায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। ২) বিশ্ববিদ্যালয়ের CCTV ফুটেজ সংরক্ষণ করে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। ৩)যারা পরিকল্পিতভাবে এই ভাঙচুরের সঙ্গে যুক্ত, তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। ৪)যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ও প্রতীকগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৫)রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ও ঐতিহ্য নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিশেষে বিবৃতিতে লেখা হয়েছে, ABVP স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের পরীক্ষাগার নয়। এটি দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মতাদর্শগত বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক প্রতীকের উপর আঘাত কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব রক্ষায় ABVP সর্বদা সোচ্চার থাকবে।।
