এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০৫ মে : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভূমিধস বিজয় লাভ করেছে। এবং তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। ফলাফল এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বাংলার মানুষ সীমাহীন দুর্নীতি আর মুসলিম তোষামোদি রাজনীতির জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের উপর তিতিবিরক্ত হয়ে উঠেছিল। চতুর্থবারের মত মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখা মমতা ব্যানার্জির সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিয়ে ১৫ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটিয়েছে । আর এই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য অন্য কেউ নয়,তৃণমূলের নেতানেত্রীরা নিজেরাই দায়ী। তাদের মধ্যে একজন হলেন সায়োনি ঘোষ। অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া সায়োনি ঘোষ এই নির্বাচনে নিজেকে টিএমসি -র একজন তেজস্বী নেত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন, কিন্তু তিনি দলের জন্য ‘অভিশাপ’ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি প্রচারে গিয়েছিলেন এমন বেশিরভাগ এলাকাতেই টিএমসি শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা হোক, কিংবা মাদারিহাট, পুরুলিয়া বা জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ কেন্দ্র, বিজেপি প্রতিটি আসনেই তৃণমূল কংগ্রেসকে পরাজিত করেছে। এই এলাকাগুলোতে ঘুরে ঘুরে সায়োনি ঘোষ কবিতা ও গান গেয়ে নিজেকে একজন “ধর্মনিরপেক্ষ” নেত্রী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। সায়োনির একটি বাংলা গান, যা ভাইরাল হয়েছিল, তার কথাগুলো হলো : “আমার হৃদয়ে কাবা,নয়নে মদিনা।” উদারপন্থী মহল এই গানটির জন্যই সায়োনি ঘোষের প্রশংসা করেছিল।
শুধু তাই নয়, নির্বাচনে তাঁকে মমতা ব্যানার্জীর ছায়া হিসেবেই ওই সমস্ত তথাকথিত উদারপন্থীরা উপস্থাপন করছিল। একটি সাধারণ সাদা শাড়ি পরে হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে তিনি বিজেপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ শুরু করে গেছেন। গণমাধ্যমও সায়োনি ঘোষের প্রচারণাকে ব্যাপকভাবে প্রচার করেছিল, এমনকি কিছু ইউটিউব চ্যানেল তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়ে তাঁর “ধর্মনিরপেক্ষ” রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। কিন্তু কেউই তাঁর হিন্দু-বিদ্বেষ প্রকাশ করেনি।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, মুখ্যমন্ত্রী যোগীই মুসলিম তোষণকারী রাজনীতির চর্চাকারী টিএমসি এবং এর নেত্রী সায়োনী ঘোষকে হিন্দুত্বের পাঠ পড়িয়েছেন । একটি জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী যোগী সায়োনী ঘোষের নাম উল্লেখ না করেই তাঁকে শিখিয়েছিলেন যে বাংলার পরিচয় কাবা নয়, মা কালী। এর পরে সায়োনী ঘোষ হনুমান চালিসা পাঠ করতে বাধ্য হন এবং নির্বাচনে তিনি একজন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ নেত্রী হিসেবে পরিচিতি পেতে শুরু করেন। এই সেই সায়নী ঘোষ, যিনি শিবলিঙ্গে কন্ডোম পরিয়েছিলেন। এখন কন্ডোম পরানো তার মুখমণ্ডল সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে ।
মানুষ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন যে তাঁর ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। কিন্তু হ্যাকার কোনো মুসলিম-বিরোধী পোস্ট শেয়ার করেনি। এর মানে হলো, সায়োনি ঘোষ প্রকাশ্যে হিন্দুদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করেন এবং কাবা ও মদিনা নিয়ে গান করেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জনগণের মধ্যে তাঁর ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনীতির প্রচার করেন।
এখন, নির্বাচনের ফলাফলের পর সায়োনি ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ব্যবহারকারীরা তাঁর অতীতের সিনেমার উদাহরণ টেনে তাঁর ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনীতি এবং বিনয়ী ভাবমূর্তির মুখোশ খুলে দিচ্ছেন। মানুষের দাবি, ইনিই সেই সায়োনি ঘোষ যিনি ‘চরিত্রহীন’-এর মতো প্রাপ্তবয়স্ক ছবিতে অভিনয় করেছেন এবং এখন নির্বাচনী প্রচারে একজন সাধারণ নারীর ভান করে মন্তব্য করছেন।
কিন্তু বাংলার ফলাফল পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গত ১৫ বছর ধরে টিএমসি-র ‘জঙ্গল রাজ’-এ অতিষ্ঠ এখানকার মানুষ তাঁদের রায় দিয়েছেন। এখন জনগণ এক ‘পরিবর্তন’ ঘটিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলা কাবা ও মদিনার গানে ভরে উঠবে না, বরং রাজ্যটি তার বাঙালি পরিচয়ে সম্মানিত হবে। তার ইঙ্গিতও দিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী । গতকাল তিনি পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম জয় উদযাপন করতে দিল্লিতে দলীয় সদর দপ্তরে বাংলির চিরাচরিত পোশাক ধুতি-পাঞ্জাবি পরে গিয়েছিলেন । এতে প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বাঙলির হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর তাঁদের ডবল ইঞ্জিন’ সরকার ।।

