এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,০৫ মে : ‘গত বছর ১৪ই নভেম্বর যখন বিহার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে গঙ্গা বিহার ছাড়িয়ে গঙ্গাসাগরে গিয়ে মিশবে। আজ পশ্চিমবঙ্গের জয়ে গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত পদ্ম ফুটেছে। উত্তরাখণ্ড, উত্তর প্রদেশ, বিহার এবং এখন পশ্চিমবঙ্গ। আজ মা গঙ্গার চারপাশের এই রাজ্যগুলিতে বিজেপি এবং এনডিএ সরকার রয়েছে’ : বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছেন যে এটিকে একটি ঐতিহাসিক দিন বলা যেতে পারে কারণ তিনটি রাজ্যের বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি বেশি আসন জিতেছে। তিনি পাঁচটি রাজ্যের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সেদিন বলেছিলাম যে আমি নিজে থেকে আসিনি, মা গঙ্গা আমাকে ডেকেছেন। ২০১৩ সালে, যখন বিজেপি আমাকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিল, আমি যখন কাশীতে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েছিলাম তখন সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন। তখন আমার হৃদয় থেকে স্বাভাবিকভাবেই একটি কথা বেরিয়ে এসেছিল। ‘আমি নিজে থেকে আসিনি, মা গঙ্গা আমাকে ডেকেছেন’, আজ আমি প্রতি মুহূর্তে আমাদের সকলের উপর মা গঙ্গার অবিরাম আশীর্বাদ বর্ষণ অনুভব করছি।বিজেপি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ফলেই পদ্ম ফুটেছে। ভোটাররা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন কেন এই দেশকে গণতন্ত্রের জননী বলা হয় ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জয়-পরাজয় গণতন্ত্র ও নির্বাচনী রাজনীতির একটি স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু পাঁচটি রাজ্যের মানুষ বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে আমাদের ভারতই গণতন্ত্রের জননী… আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু একটি ব্যবস্থা নয়। এটি একটি সংস্কৃতি যা আমাদের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয়। আজ শুধু ভারতীয় গণতন্ত্রই জয়ী হয়নি, আজ ভারতের সংবিধানও জয়ী হয়েছে। আমাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো জয়ী হয়েছে। আমাদের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াগুলো জয়ী হয়েছে।
বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হার নিজেই একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। আসাম, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি এবং কেরালাতেও নতুন ভোটদানের রেকর্ড তৈরি হয়েছে। নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল চিত্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ৪ঠা মে-র সন্ধ্যা যখন মিলিয়ে যাচ্ছে, বাংলার পবিত্র ভূমিতে এক নতুন সূর্যোদয় হচ্ছে। এটি এমন এক ভোর যার জন্য প্রজন্ম ধরে অপেক্ষা করছিল । বিজেপির জেতা আসনের সংখ্যা কেবল একটি নির্বাচনী হিসাব নয়। এটি অটল বিশ্বাসের এক গর্জন, যা ভয়, তোষণ এবং হিংসার রাজনীতিকে সমূলে উৎখাত করেছে।।
