তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073-তে জিহাদি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির নাশকতার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর । ইসরায়েল, আমেরিকা,রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরত সহ বিভিন্ন দেশ ভারতীয় ক্যাপ্টেনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে৷ কিন্তু এই হামলা ব্যর্থ হওয়ায় বিন্দুমাত্র খুশি নয় কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদা ও পাকিস্তান-বাংলাদেশের মত ইসলামি রাষ্ট্রগুলি । বরঞ্চ ‘কাফের’ পরিচালিত বিমান সংস্থাগুলির উপর একই কায়দায় হামলার আহ্বান জানিয়েছে আল-কায়েদা ।
আল-কায়েদার ইয়েমেনি শাখা (একিউএপি) তাদের সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘আল-বায়ান’-এ ‘ফ্লাইদুবাই’ ফ্লাইটে জিহাদি হামলার ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়ে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। ওই কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটি
ওমানি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছে এবং আমেরিকান ও ইসরায়েলি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর একই ধরনের হামলার আহ্বান জানিয়েছে।
‘১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে’ শিরোনামের সম্পাদকীয়টিতে ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এবং তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট এফজেড ১০৭৩-এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে । আরবিতে লেখা নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে, “যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি; জায়নবাদী, আমেরিকান এবং ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিভিন্ন কাফের গোষ্ঠীর সৈন্যবাহী বিমানগুলো এখনো আকাশে উড়ছে। যেমনটা ১১ই সেপ্টেম্বর এবং ৩০শে সেপ্টেম্বরে প্রমাণিত হয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার সম্ভাবনা রয়েছে।”
নিবন্ধটিতে লেখা হয়েছে, বিমান ছিনতাই সফল হলে এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে যেতে পারত। আল-বায়ান বলেছে, অমুসলিমরাও আমেরিকা ও ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারত এবং এ ধরনের হামলা মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারত।নিবন্ধটিতে বলা হয়েছে,”আমেরিকা ও জায়নবাদীদের শত্রুরা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। হামলাটি এমন কেউ চালাতে পারে যে ঈশ্বর বা পরকালে বিশ্বাস করে না, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড শেষ পর্যন্ত ইসলামের স্বার্থই রক্ষা করতে পারে৷”
ফ্লাইদুবাই ফ্লাইটে কী ঘটেছিল?
দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073 অল্পের জন্য সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কথায়, ফের একটা ৯/১১ এর মত সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিল । সহ-পাইলট, ওমানি নাগরিক হামাম আল-হাম্মামি, ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিথ মাচারকে একটি ‘ক্র্যাশ এক্স’ দিয়ে আক্রমণ করে । গুরুতর আহত অবস্থাতেই ক্যাপ্টেন ককপিটের দরজা খুলে ক্রুদের সতর্ক করেন।
যাত্রীরা সহ-পাইলটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে প্রায় ১৪,০০০ ফুট নিচে নেমে আসে। ক্যাপ্টেন মাচার বলেন, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই তিনি কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। বিমানে থাকা ফ্লাইদুবাইয়ের পাইলটদের দ্বিতীয় একটি দল বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করায়।
ভারতের বিরুদ্ধে বিরাট ষড়যন্ত্র
একটু একটু করে স্পষ্ট হচ্ছে যে, ওমনি সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি শুধু জিহাদি মানসিকতারই নয়, তার সাথে প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আল-কায়েদার সাথে । সে কুখ্যাত আল- কায়েদার মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিল বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে ইউএই পুলিশ । আর পুরো ঘটনাটি পরিকল্পনা মাফিক ঘটানো হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে । আর এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউএই-এর বিমান বেছে নেওয়া হয় । সন্দেহ যে,যদি এই জিহাদি হামলা সফল হত তাহলে ভূরাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে যেত । কারন তখন ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে মূল অভিযুক্ত এবং ওমানি সহ পাইলটকে নায়ক হিসাবে উপস্থাপন করা হত । আর এতে ভারতের সঙ্গে ইসরায়েল-আমেরিকা ও ইউএই এর সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিল । কিন্তু ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় এই মারাত্মক ষড়যন্ত্রে জল ঢেলে দেয় । ক্যাপ্টেন স্মিতের কথায়,”ভগবান হনুমানের অশেষ কৃপায় এতগুলো প্রাণ বেঁচে গেছে ।”

