এইদিন ওয়েবডেস্ক,আহমেদাবাদ,১০ সেপ্টেম্বর : প্রায় তিন মাস আগে এক পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে মুসলিম তরুনী সোফিয়া ফারুকের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর,গুজরাটের সারখেজের ২২ বছর বয়সী এক তরুণীকে তার বাবা ও দাদার বিরুদ্ধে হাতুড়ি দিয়ে মাথা থেঁতলে খুনের অভিযোগ উঠেছে ।এম ডিভিশনের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক ইউবি ঢাকাদা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা হল মহম্মদ ফারুক নবাবখান (৫৬) এবং হাবিল ফারুক (৩৮)।
পুলিশ জানিয়েছে, ফ্যাব্রিকেশন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ওই দুই ব্যক্তি সোফিয়াকে সারখেজের গেলজিপুরার কাছে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে আক্রমণ করে এবং পরে হত্যাকাণ্ডটিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালানোর ষড়যন্ত্র করে । সোফিয়া জুহাপুরার একটি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট হিসেবে কাজ করতেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ মনে করেছিল তরুনীকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে । পুলিশকে জানানো হয় যে, গত ১২ই আগস্ট রাতে সোফিয়া সমৃদ্ধ ডেইরির কাছে হাবিলের মোটরসাইকেলের পেছনে বসেছিলেন, তখন একটি অজ্ঞাত গাড়ি পেছন থেকে তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। তার মাথার পেছনে ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগায় তাকে সোলা সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ১৩ই আগস্ট তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।ধাকাদা বলেন,’তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য দুর্ঘটনার গল্পটি সাজানো হয়েছিল ।’
পুলিশ পরে জানতে পারে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি সোফিয়াকে একটি মোটরসাইকেলে করে গেলজিপুরা গ্রামের কাছে একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল। পুলিশ জানায়, হাবিল তার প্যান্টের ভেতরে একটি লোহার হাতুড়ি লুকিয়ে রেখেছিল।
ধাকাদা বলেন,’প্রায় তিন মাস আগে সোফিয়া ও এক যুবকের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যার পর তার বাবা ও দাদা তাকে তিরস্কার করে এবং ছেলেদের সঙ্গে তার কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান।’
অভিযোগ রয়েছে যে, ওই দুজন সোফিয়ার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং সমাজে পরিবারের সম্মান রক্ষার দাবি করে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
পুলিশের অভিযোগ, নির্জন স্থানটিতে পৌঁছানোর পর হাবিল হাতুড়ি দিয়ে সোফিয়ার মাথায় তিনবার আঘাত করে এবং ফারুক তাকে এতে সহায়তা করে।এরপর তাকে একটি জনবহুল রাস্তায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি এমন ধারণা তৈরি করে যে একটি অজ্ঞাত গাড়ি মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়েছে। ধাকাদা বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি তদন্তকে বিভ্রান্ত করার জন্য একটি অজ্ঞাত গাড়ি সম্পর্কে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে এবং দুর্ঘটনার একটি ভুয়া বিবরণ তৈরি করে।”বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে।।

