এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,১২ আগস্ট : ৭ বিঘা জমি বিক্রি করে যে কলেজের প্রতিষ্ঠা করেন,সেই কলেজ মাঠেই অবশেষে অধ্যক্ষ তার ৬ টুকরো দেহ উদ্ধার করা হয়েছে । বাংলাদেশের ঢাকার সাভারের রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের (৩৬) গত মাসে ১৪ তারিখ (১৪-০৭-২১) থেকে অধ্যক্ষ তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । ধৃতরা হল : (১) মহম্মদ রবিউল ইসলাম (৩০), পিতা-জালাল উদ্দিন । গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা সে । (২) মহম্মদ আবু মোতালেব (৩০), পিতা-মহম্মদ মফিজুর রহমান । তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া থানার গিতালগঞ্জ গ্রামে । এবং (৩) মহম্মদ আঃ রহিম বাদশা (২২), পিতা-মোঃ আব্দুল ওহাব । তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার চন্ডিপুর গ্রামে। তাদের যথাক্রমে ঢাকার আব্দুল্লাহপুর ও আশুলিয়া (সাভার) এবং গাইবান্ধা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।
জানা গেছে,মিন্টু চন্দ্র বর্মণ সাত বছর ধরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি সেখানকার আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। দুই বছর আগে (২০১৯ সাল) মিন্টু চন্দ্র বর্মণসহ চারজন মিলে জামগড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সাভার রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েন। অন্য তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা হলেন রবিউল ইসলাম, মোতালেব ও শামসুজ্জামান। মিন্টু চন্দ্র বর্মণ ছিলেন এর অধ্যক্ষ। ওই কলেজের প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজের ৭ বিঘা জমি বিক্রি করতে হয় মিন্টু চন্দ্র বর্মণকে৷
বাংলাদেশের র্যাপিক অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন(র্যাব) জানিয়েছেন,কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাকি তিন সহপ্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে মিন্টু বর্মনের দ্বন্দ্ব চলছিল । ২৮ দিন আগে হঠাৎ তিনি নিখোঁজ হয়ে যান । পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্তে নেমে স্কুলের মাঠে পুঁতে রাখা মিন্টু বর্মনের ৬ টুকরো দেহাংশ উদ্ধার হয় । র্যাব বলছে, মিন্টু বর্মণকে হত্যার পর লাশ ছয় টুকরা করে স্কুলের মাঠে পুঁতে ফেলা হয়। দেহ থেকে মিন্টুর মাথা বিচ্ছিন্ন করে উত্তরায় একটি ডোবায় ফেলা দেওয়া হয় । কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই তাঁকে খুন করা হয়। মিন্টুর এক সহকর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব ।।
