এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,০১ জুন : “গদ্দার” আখ্যা দিয়ে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন মমতা ব্যানার্জি । তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে । বিশেষ করে ঋতব্রতের উপর চরম ক্ষুব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো । তিনি হাওড়ার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে বলেছেন, ‘যারা মানুষের ভোট নিয়ে গদ্দারি করছেন, তাদের আপনারা জিতিয়েছেন। এমন একজন অন্যের কথায় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যিনি আগে সিপিএম করতেন। তিনি সম্পূর্ণ নীতিহীন একজন ব্যক্তি। আমাদের ভুল হয়েছে তাকে টিকিট দেওয়া। সে পায়ে পড়েছিল বলেই আমরা তাকে সুযোগ দিয়েছিলাম। সেদিন সিপিএম তার বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা ঠিকই ছিল। আমরা তাকে ক্ষমা করে হাওড়ায় দাঁড় করিয়েছিলাম, কিন্তু সে সেখানকার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করল।’
মমতার অভিযোগ,’এই দুই নেতা নিয়মিত বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং গেরুয়া শিবিরের নির্দেশে তৃণমূলকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতেই দল তাঁদের বিরুদ্ধে এই কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।’ সেই সাথে
হাওড়াবাসীর উদ্দেশে বলেন,’আজ আমি হাওড়ার মানুষের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইছি। আমরা এমন একজনকে সুযোগ দিয়েছিলাম, যে বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেনি।’
উল্লেখ্য,ঘটনার সূত্রপাত সই জালিয়াতি কান্ডকে কেন্দ্র করে । তৃণমূলের তরফে রাজ্যপালের কাছে দলীয় বিধায়কদের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাছার জন্য৷ তাতে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের স্বাক্ষরও ছিল। কিন্তু গত ২৭ মে দুই বিধায়ক বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে একটা চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেন যে ওই আবেদনপত্রের স্বাক্ষর তাদের নয় । শুধু তাই নয়, তারা আরও দাবি করেন যেআরও অন্তত ১৪ জনের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে । যা নিয়ে চরম বিপাকে পড়ে যান মমতা ব্যানার্জি ও অভিষেক ব্যানার্জি । এই সই জালিয়াতি মামলার তদন্ত ভার এখন সিআইডি-এর হাতে । ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেককে তলব করেছিল সি আইডি । আজ তার হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল । কিন্তু তিনি অসুস্থতার কারন দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গেছেন । এরই মাঝে দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো । ফলে বর্তমানে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা দাঁড়াল ২৮ জনে ।।
