এইদিন ওয়েবডেস্ক,মিজোরাম,১৭ জুলাই : মার্কিন ডিপ স্টেটের অর্থায়নে ভারতের গির্জাগুলির বিরুদ্ধে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরে উঠছে । শুধু দরিদ্র হিন্দুদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করাই নয়,বরঞ্চ মনিপুরের মত রাজ্যগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে । বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল এনেছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার । আর এই বিল আনা আটকাতে মরিয়া চেষ্টা করেছিল আমেরিকা । কিন্তু তারা ব্যর্থ হয় । তবে শুধু আমেরিকাই নয়, বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল আনায় বেজায় ক্ষুব্ধ কংগ্রেসও ।
মিজোরাম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এমপিসিসি) প্রস্তাবিত বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬-এর বিরুদ্ধে ২১শে জুলাই রাজ্যব্যাপী ‘কালো দিবস’ প্রতিবাদের ঘোষণা করেছে। তাদের অভিযোগ, এই বিলটি বিদেশী তহবিলের উপর নির্ভরশীল গির্জা, খ্রিস্টান সংগঠন এবং এনজিওগুলোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আইজলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমপিসিসি-র কোষাধ্যক্ষ লালমলসাওমা নঘাকা বলেন, দুপুরবেলা রাজ্যজুড়ে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হবে। দলটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের গির্জা, খ্রিস্টান সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে এতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বিদেশী তহবিলের উপর এমনভাবে নিয়মকানুন কঠোর করবে যা খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করবে।
নঘাকা বলেছেন,”প্রস্তাবিত সংশোধনীটি গির্জা, এনজিও এবং খ্রিস্টান সংগঠনগুলোকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে, যারা তাদের সামাজিক, শিক্ষামূলক ও দাতব্য কার্যক্রমের জন্য বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভর করে৷” তিনি বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কংগ্রেস এর বিরোধিতা অব্যাহত রাখবে।
দলটি আরও দাবি করেছে যে, কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিজোরামের বেশ কয়েকটি সংস্থাসহ ২০,০০০-এরও বেশি সংস্থা তাদের এফসিআরএ লাইসেন্স হারিয়েছে। দলটি আরও অভিযোগ করেছে যে, গির্জাগুলো বিদেশি অনুদান গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে।আইনটির বিবর্তন তুলে ধরে নঘাকা বলেন, বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইনটি ১৯৭৬ সালে প্রণীত হয়, ১৯৮৪ সালে সংশোধিত হয়, ২০১০ সালে ব্যাপকভাবে পরিমার্জন করা হয় এবং ২০২০ সালে আনা সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে এটিকে আরও কঠোর করা হয়।
এমপিসিসি-এর মতে, খ্রিস্টান সংস্থাগুলো বিদেশি দাতব্য তহবিলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পেয়ে থাকে এবং প্রস্তাবিত ‘বৈদেশিক অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬’ তাদের মানবিক, শিক্ষামূলক এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে।এমপিসিসি সমগ্র মিজোরামের জনগণকে ২১শে জুলাইয়ের বিক্ষোভে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।।
