এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),০১ জুন : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অনুপ্রবেশ আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণার পর থেকেই একদিকে যেমন পেট্রোপল সীমান্তে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় জমছে প্রতিদিন । সেই সাথে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য জুড়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে তাবড় তৃণমূল নেতারা । এই ধারাবাহিকতায় এবারে সজলধারা প্রকল্পে সরকারি পাম্প চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হল পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মাসাদুল রহমান ওরফে মুকুল । তার বাড়ি ক্ষীরগ্রাম অঞ্চলের ধারশোনা গ্রামে৷ রবিবার গ্রেপ্তারের পর আজ সোমবার তাকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হয়৷
জানা গেছে,সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩০ মে ক্ষীরগ্রাম পঞ্চায়েতে অফিস পরিদর্শনে গিয়েছিলেন মঙ্গলকোটের বিজেপি বিধায়ক শিশির ঘোষ । তিনি সরাসরি পঞ্চায়েতের গোডাউনে গিয়ে ঢোকেন । সেখানে গিয়ে তার নজরে পড়ে সজলধারা প্রকল্পের জন্য আনা সমস্ত পাম্প, মেশিন ও যন্ত্রাংশ গায়েব হয়ে গেছে । তিনি সরাসরি প্রধান বানু মণ্ডলের কাছে তার কৈফিয়ত চান । উত্তরে প্রধান জানান যে সজলধারা প্রকল্পে সরকারি পাম্পসহ যন্ত্রাংশ সব বিক্রি হয়ে গেছে৷ আর বিক্রি করে দিয়েছেন খোদ ক্ষীরগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মাসাদুল রহমান ।
জানা গেছে,একথা শোনার পর বিজেপি বিধায়ক শিশির ঘোষ খবর নিতে শুরু করেন যে সেগুলি কোথায় বিক্রি করা হয়েছে । তখন তিনি জানতে পারেন যে ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর তৃণমূলের মাসদুল রহমান সাঙ্গপাঙ্গদের সঙ্গে পঞ্চায়েতে এসে প্রধান বানু মণ্ডলের কাছে গোডাউনের চাবি নিয়ে যত সাবমার্সিবলের পাম্প ও যন্ত্রাংশ ছিল সেগুলি সব বের করে নিয়ে যায় । তারপর সেগুলি ইট্টা গ্রামের বাসিন্দা কৌশিক গুপ্ত ও কামাল গ্রামের ঠিকাদার রাজকুমার হাজরাকে মোটা টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয় । যার বাজার মূল্য অন্তত ১০ লক্ষ টাকা । শুধু তাইই নয়,বিজেপি বিধায়ক আরও জানতে পারেন যে সরকারি জায়গায় লাগানো প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার কেটে বিক্রি করে সেই টাকা আত্মসাৎ করে নিয়েছে ক্ষীরগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি মাসাদুল রহমান ।
পঞ্চায়েতে এই ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে প্রধান ও পঞ্চায়েতের সমস্ত কর্মীদের ঘেরাও করে রাখেন বিজেপি বিধায়ক । খবর পেয়ে পুলিশ আসে । শেষ পর্যন্ত পুলিশের আশ্বাসে ঘেরাও মুক্ত হয় প্রধান । এরপর এই দুর্নীতির বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক থানায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন । তার অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিন রাতেই রাতে প্রধান বানু মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ । কিন্তু তার আগেই চম্পট দেয় মাসাদুল রহমান । শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে তাকে পাকড়াও করে পুলিশ ।
জানা গেছে,ক্ষীরগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বানু মণ্ডল এক সময় গ্রামে গ্রামে আইসক্রীম ফেরি করতেন । পরে তিনি সক্রিয় ভাবে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হন । তারপর থেকেই ভাগ্য খুলে যায় বানু মণ্ডলের । অন্যদিকে মাসাদুল রহমান ওরফে মুকুল মঙ্গলকোটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরীর পিএ ছিল ৷ আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সে ব্যাপক দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ বিজেপির । বর্তমানে ধৃত দুই তৃণমূল নেতাকে জেরা করে পঞ্চায়েতের ব্যাপক দুর্নীতির মাথাগুলিকে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ ।।
