এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৭ জুন : তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে । সর্বশেষ মৃত্যুর খবরটি এসেছে ৩৮ বছর বয়সী যুবক খালেক সরদারের। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীর বাসিন্দা ওই যুবক দুর্ঘটনার পর থেকেই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন । কিন্তু আজ তার মৃত্যু হয় । এদিকে বিজেপির ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের (BJMC) পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ অভিযুক্তদের তালিকায় নাম রয়েছে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং ১৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সামস ইকবালের । তার আগে বিধ্বস্ত গোডাউনের নির্মাণ নকশায় ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর দেখিয়ে তার ভূমিকা নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্ন তুলেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ আর সেটাকেই হাতিয়ার করে এখন ‘নতুন তৃণমূল’ ফিরদাদ হাকিমের গ্রেপ্তারের দাবি তুলে বসলেন ‘কালিঘাট তৃণমূল’-এর কুণাল ঘোষ । মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে কুণাল ঘোষের চ্যালেঞ্জ,’আজ বিকেল ৫টার মধ্যে ফিরহাদ হাকিম গ্রেপ্তার না হলে স্পষ্ট হবে যে মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় যে নথি দেখিয়েছিলেন, তা কেবল রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল ছিল।
ফিরহাদের গ্রেফতারির জন্য কার্যত ডেডলাইন বেঁধে দিয়ে কুণাল বলেন,’কাগজ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তাহলে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না? যদি তারাতলা ফিরহাদ দোষী হন, তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে। আজ বিকেল ৫টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।’ কুণাল বলেছেন,’শনিবার বিকেলে ঋতব্রতদের বৈঠক রয়েছে। বিধায়কের দাবি, সেখানে যদি ফিরহাদ হাকিম কাউন্সিলরদের নিয়ে যান, তাহলে বুঝতে হবে, তাঁকে গ্রেফতার করার কোনও সদিচ্ছা নেই।’ তিনি আরও বলেছেন,’যদি দেখা যায় ফিরহাদ হাকিমকে দিয়ে কুনকী হাতীর কাজ করানো হচ্ছে, যাকে দিয়ে কাউন্সিলরদের ভাঙানো যায়, তাহলে বুঝব কোনও সদিচ্ছা নেই। আর যদি ফিরহাদ গ্রেফতার হন, তাহলে বুঝব, মুখ্যমন্ত্রী হৃদয় থেকে কথাটা বলেছিলেন।’
যদিও কুণালের দেওয়া ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত ফিরহাদের গ্রেপ্তারির কোনো খবর নেই । তবে ধৃতদের সঙ্গে প্রাক্তন মেয়রের ঘনিষ্ঠতার ছবি প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে । উল্লেখ্য,যে গোডাউনটি ভেঙে পড়েছে, সেটি তৈরির মূল দায়িত্বে ছিলেন আসগর হোসেন নামে এক ব্যক্তি । এই আসগর সংশ্লিষ্ট ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আনোয়ার খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। আনোয়ার এবং আসগর— দুজনের সঙ্গেই ফিরহাদ হাকিমের একাধিক ছবিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে৷ আর এতেই স্পষ্ট যে তাদের সঙ্গে ফিরহাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল । তাই শুধু কুণাল ঘোষই নন, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও ফিরহাদের গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছেন । তিনি বলেছেন,’ওএসডি কালীচরণকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তাহলে ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করা হবে না কেন?’
