এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,২৮ মে : আজ রাজ্য জুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হল মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ । অবশ্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব পালিত হওয়ার পিছনে পুরো ক্রেডিট রাজ্য পুলিশের ৷ কারন ঈদের ঠিক কয়েকদিন আগেই পশুহত্যা নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের নতুন সরকার । পাশাপাশি সড়কপথে কোনো প্রধার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের উপর লাগাম টেনে ধরা হয়েছে । আর এই সরকারি নির্দেশিকা যথাযথ ভাবে প্রয়োগের বিষয় রাজ্য পুলিশের তৎপর ছিল । পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার ঈদের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো প্রকার উসকানিমূলক পোস্ট ঘিরে যাতে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয় সেদিকেও পুলিশের কড়া নজর ছিল । রাজ্যের প্রতিটি থানায় এনিয়ে সতর্কতাও জারি করা হয় ।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তেমন কোনো বিতর্কিত পোস্ট না হলেও আজ বৃহস্পতিবার ক্যানিং-এর এক ডিজিট্যাল ক্রিয়েটরের একটি ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ । কলকাতা পুলিশের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে ওই ডিজিট্যাল ক্রিয়েটরের ভিডিও পোস্টটির স্ক্রীন শর্ট শেয়ার করা হয়েছে । যেটিকে “মিথ্যা দাবি সহ বিভ্রান্তিকর ভিডিও” বলে জানিয়েছে পুলিশ ৷ এবং পোস্টকারীর ‘ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে’ বলে জানানো হয়েছে ।
কলকাতা পুলিশ যে পোস্টটি নিয়ে সতর্ক করে দিয়েছে, সেটি জনৈক এমডি আজারুল শেখ(MD Ajarul Sheikh) নামে এক ব্যক্তি গতকাল পোস্ট করেছিলেন । ওই পোস্টে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে । যেখানে দেখা গেছে যে ছাগল বোঝাই কয়েকটি লরি আটকানো হয়েছে এবং দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হচ্ছে । ঘটনাটি ভিন রাজ্যের । এমডি আজারুল শেখ ভিডিওটির প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন,’এতদিন গরু নিয়ে আপত্তি ছিল বাংলার মুসলিম তথা ভারতীয় মুসলিমরা সেই আপত্তিকে সম্মান জানিয়ে গরু কুরবানী ও গো মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং গরু ভারতের রাষ্ট্রীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি করেন মুসলমানরা। হিন্দুবাদী এবার বলছে ছাগল কুরবানীও দেওয়া যাবে না,তাহলে এদের ক্যান্সার হয়েছে । গরু যদি মা হয় উট হবে বাবা ছাগল হবে মাসি ।’
যদিও কেউ কেউ এই পোস্টটি পশ্চিমবঙ্গের নয় বলে মন্তব্য করেছে এবং কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশকে ট্যাগ করেছে । পোস্টটির স্ক্রীন শর্ট দিয়ে কলকাতা পুলিশ সতর্ক করে দিয়ে লিখেছে, ‘কলকাতা/পশ্চিমবঙ্গের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে মিথ্যা দাবি সহ বিভ্রান্তিকর ভিডিও এবং পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, শেয়ার করা দৃশ্যগুলো অপ্রাসঙ্গিক এবং দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কলকাতা পুলিশ এই ধরনের অপতথ্যের বিস্তার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মিথ্যা বিষয়বস্তু ছড়ানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাগরিকদের যাচাইবিহীন তথ্য শেয়ার না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’
কলকাতা পুলিশের শেয়ার করা স্ক্রীন শর্ট থেকে ওই নির্দিষ্ট নামটি ফেসবুকে সার্চ করলে দেখা যায় যে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি বিদ্যমান রয়েছে । এমডি আজারুল শেখ নামে ওই ব্যক্তি প্রোফাইলে নিজেকে ডিজিটাল ক্রিয়েটর বলে দাবি করেছেন । ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ক্যানিং ও বাসন্তী । তার কয়েকটি পোস্টে ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী’ এবং ‘হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি’ প্রভৃতি শব্দ প্রয়োগ করতে দেখা গেছে । পাশাপাশি বিজেপির বিরোধিতা করেও একাধিক পোস্ট রয়েছে । এমনকি তিনি নতুন গজানো দল কক্রোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করে একটি পোস্ট করেছেন, ‘যারা সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাঁদেরকে শান্তিতে দেবে না CJP বুক বাঁধছেন ছাত্র যুবরা (Jen z)৷’।
