২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলা ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং আইএসআই-এর মধ্যে একটি সাজানো ঘটনা । আর এই সন্ত্রাসী হামলার দায় ভারতের হিন্দুদের ঘাড়ে দায় চাপাতে চেয়েছিল কংগ্রেস৷ কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিং “হিন্দু আতঙ্কবাদ” শব্দের আমদানি করেছিল । ইশরাত জাহান মামলায় নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহই ছিলেন মূল লক্ষ্য । তুকরাম ওম্বালে যদি সন্ত্রাসী আজমল কাসাভকে জীবিত না ধরতেন, তাহলে আজ একে হিন্দু সন্ত্রাসী হামলা বলা হতো,কারন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী হিন্দু নাম নিয়ে ভারতে ঢুকেছিল। এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করে দিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি আর.ভি.এস. মণির ।
এএনআই পডকাস্টে আজ ভারতীয় সময় বিকেল ৫টায় প্রিমিয়ারে কথোপকথনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রাক্তন আন্ডার সেক্রেটারি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আর এস ভি মণি কংগ্রেস ও পাকিস্তানের মিলিত ষড়যন্ত্রের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি বলেছেন,”২৬/১১ ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং আইএসআই-এর মধ্যে একটি পাতানো ম্যাচ। তুকরাম ওম্বালে যদি কাসাবকে না ধরতেন, তাহলে আজ একে হিন্দু সন্ত্রাসী হামলা বলা হতো। দিগ্বিজয় সিং আমাকে হিন্দু সন্ত্রাসের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে বলেছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম এমন কোনো ঘটনা নেই।’ তিনি বলেন,২০১০ সাল পর্যন্ত কোনো ফাইলেই ‘হিন্দু সন্ত্রাস’ শব্দটি ছিল না ।
এছাড়া তিনি প্রকাশ করেছেন যে, কীভাবে পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট দল, প্রতিনিধিদল এবং ‘জনগণের সাথে জনগণের’ যোগাযোগকে ভারতে মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত, যা সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন যে, শোয়েব আখতার এবং মোহাম্মদ আসিফসহ পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগত ব্যবহারের আড়ালে মাদক বহন করতেন এবং তিনি কোচ বব উলমারের রহস্যজনক মৃত্যুকে এই মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধের সাথে যুক্ত করেন। মণি আরও অভিযোগ করেন যে, ইউপিএ সরকারের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা গোয়েন্দা ব্যুরোর গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা উপেক্ষা করেছিলেন এবং ভারতের সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত নথি নষ্ট করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জাতীয় প্রভাব নষ্ট করে দিয়েছিল। এই এ এন আই পডকাস্টটি আপোসকৃত জাতীয় নিরাপত্তার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র ডঃ সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছেন,’প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আরভিএস মণির ২৬/১১ সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুতর দাবি অনেক পুরনো প্রশ্নকে আবার উস্কে দিয়েছে। তিনি বলেছেন যে, যদি কাসাভকে জীবিত ধরা না যেত, তাহলে তথাকথিত হিন্দু সন্ত্রাসবাদের মিথ্যাটি সত্য বলে প্রমাণিত হতো।’ তিনি লিখেছেন,’অসংখ্য ঘটনা ও তথ্যের উপর ভিত্তি করে তিনি একটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ করেছেন যে, এটি ছিল পাকিস্তানের সন্ত্রাসের কারখানা আইএসআই এবং কংগ্রেস পার্টি, আইএনসি-র মধ্যে একটি পাতানো খেলা। কংগ্রেসের স্পষ্ট করা উচিত এই তথ্যগুলো সত্য কি না। কোন ষড়যন্ত্রের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে তথাকথিত “হিন্দু সন্ত্রাসবাদ” তত্ত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল?দেশ উত্তর চায়।জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজনীতি নয়, স্বচ্ছতা প্রয়োজন।’।
