এইদিন ওয়েবডেস্ক,কাটোয়া(পূর্ব বর্ধমান),১৩ জুন : এবারে গনরোষের মুখে পড়তে হল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কনিকা বায়েন সরকারকে । শুক্রবার রাতে স্থানীয় মহিলারা ওই তৃণমূল নেত্রীর বাড়িতে গিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান । তাকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। পড়ানো হয় জুতোর মালা। জবকার্ড নিয়ে অনিয়ম, বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এলাকায় বিরোধীদের উপর সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগের পাশাপাশি কনিকাদেবীর বিরুদ্ধে বাড়িতে মধুচক্র বসানোর মত বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় মহিলারা। তাদের অভিযোগ যে, সরকার স্থানীয় তৃণমূল নেতা দিগন্ত পাল ও বাবুলাল শেখদের ক্লাবে মেয়েদের পাঠাতেন কনিকা বায়েন। রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাতেন তিনি। বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, “মুসলিম ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে বার বার জড়িয়ে পরেছে, নিজের অহংকার ও দম্ভে সর্বদা বিরাজমান থেকে গরীব আত্মীয়-পরিজন ও পাড়া- প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোন সখ্যতা রাখার কোন প্রয়োজন কখন মনে করত না কনিকা বায়েন সরকার।”
বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তুলে শুক্রবার রাতে কনিকা বায়েন সরকারের বাড়িতে চড়াও হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। ঘর থেকে বের করে এনে জুতোর মালা পড়ানো হয় । ছোড়া হয় ডিম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। এরপর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয়রা ।
বিজেপি নেত্রী সীমা ভট্টাচার্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন,”কি কর্ম করছি আর কাদের সঙ্গে মিশছি, এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। জীবনের ১০টা বছর ভীষন ভালো থাকার পর যদি মানুষ তোমার কৃতকর্মের জন্য কাঠগড়ায় তুলে যথেচ্ছ অপমান করার সুযোগ পায় তবে মনে রাখতে হবে তেমার জীবন-জাপন কখনোই নৈতিক ভাবে ঠিক ছিল না…! একটা পাড়া যখন তোমার বিপক্ষে যায় বা তোমায় কোন বিষয় নিয়ে humiliate করে তখন মেনে নিতে হয় কিছুটা সততা নিশ্চয়ই তার মধ্যে আছে!”
তিনি আরও লিখেছেন,”সৌন্দর্য ও ক্ষমতা মানুষের চিরকাল সব-সময়ে থাকেন ১নং ব্লকের অধ্যক্ষ কনিকা বাইন সরকার এটা মনে রাখতে হতো। মেয়েকেও ঠিকমত মানুষ করতে পারনি, মুসলিম ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে বার বার জড়িয়ে পরেছে, নিজের অহংকার ও দম্ভে সর্বদা বিরাজমান থেকে গরীব আত্মীয়-পরিজন ও পাড়া- প্রতিবেশীদের সঙ্গে কোন সখ্যতা রাখার কোন প্রয়োজন কখন মনে করো নি। ভেবে ছিলে চিরকাল বুঝি এরকমই যাবে। আজ কি হল..…! পঁচা ডিম, জুতোর মালা পরতে হল তো..? অনেক বাজে পথে টাকা রোজগার করেছে শুধু ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে তার ভুরি ভুরি প্রমান লোকে দিচ্ছে…! সমাজের চোখে খারাপ হওয়াটা মনে হয় সবথেকে বড় অপমানের! আশা করবো এই সময়টা কাটিয়ে উঠে নিজেকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। যাতে নিজে এবং সমাজকেও ভালো রাখতে পারো ।”
