প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়,বর্ধমান,১৯ আগস্ট : ২০২৬ এর বিধানসভার ভোটে দুই শতাধিক আসনে জিতে শাসন ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি । তবে এই নজরকাড়া সাফল্যের কৃতিত্ব গেরুয়া শিবিরের নেতাকর্মীদের থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি,সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম ও হুমায়ুন কবিরদের বেশি বলে মনে করছেন মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙার ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রধান কার্তিক মহারাজ । মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কালনার বিজেপি বিধায়কের কার্যালয়ে বসে এমন দাবি করেছেন তিনি । কার্তিক মহারাজের কথায়,২০০-এর অধিক আসনে জেতা তো দূরের কথা, বিজেপির অতি বড় সমর্থক পর্যন্ত ১৬৫ টার বেশী আসন পাওয়ার কথা স্বপ্নেও কল্পনা করেননি ।
মঙ্গলবার একাধিক কর্মসূচীতে যোগ দিতে কালনায় এসেছিলেন কার্তিক মহারাজ। তিনি কালনার বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদারের আমন্ত্রনে তাঁর কার্যালয়ে যান । সেখানে বিজেপির নজরকাড়া জয়ের প্রসঙ্গ উঠতেই কেন এতে মমতা ব্যানার্জি,সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম ও হুমায়ুন কবিরদের ভূমিকাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন,’রাজ্যজুড়ে হওয়া গীতাপাঠ কর্মসূচি হিন্দু চেতনার ভিত তৈরি করেছিল।আর হুমায়ুন কবির, ফিরহাদ হাকিমদের লাগাতার সাম্প্রদায়িক মন্তব্য বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে শক্তিশালী করে তুলেছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন বললেন,“আমি আছি বলে আপনারা আছেন, না হলে ১ সেকেন্ড লাগবে না”,সেদিন কলকাতার বাবুদের টনক নড়ল।তাঁরা বুঝতে পারলেন,তৃণমূল বাংলায় ফের ক্ষমতায় এলে শুধু আগুনই জ্বলবে না,খুনোখুনি হানাহানি হবে। রাজ্যটা গ্রেটার বাংলাদেশ হয়ে যাবে।’
কার্তিক মহারাজ বিজেপির বাংলা জয়ের কারিগর হিসেবে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের নামও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,ওই যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন,’৪ তারিখের পর দেখব।এই অহঙ্কার ও দম্ভের প্রতিবাদ জানাতে বাংলার মানুষ ইভিএম বাক্সকেই বেছে নেন৷’ দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের লেখা উদ্ধৃত করে কার্তিক মহারাজ বলেন,“প্রণববাবুই লিখে ছিলেন,নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী না হলে দেশটা শেষ হয়ে যেত।”
বাংলায় ডিলিমিটেশন কার্যকর করার পক্ষে এদিন সওয়াল করেন কার্তিক মহারাজ।তিনি দাবি করেন ,ডিলিমিটেশন হলে প্রায় ৬০টি বিধানসভা বেড়ে পশ্চিমবঙ্গে ৩৫০-এ দাঁড়াবে বিধানসভা আসন। এর ফলে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির আসন আরও বাড়বে।পশ্চিমবঙ্গে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া চালু করার জন্য কার্তিক মহারাজ পূর্ণ কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্কে। সেইসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করার পটভূমি রচনা’র জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,’আমাদের ভাষা ও খাদ্যাভ্যাস অন্য রাজ্যের তুলনায় আলাদা। এই ’জিগির’ তুলে উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবাংলার সংযুক্তির পরিবেশ তৈরি করছিলেন ।’
মন্দিরময় শহর কালনায় এবার তৈরি হতে চলেছে ১৩১ ফুটের শিবলিঙ্গ।তার জমি এদিন পরিদর্শন করেন কার্তিক মহারাজ। উপস্থিত ছিলেন কালনার বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার, মূল উদ্যোক্তা জমির মালিক তথা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী সুব্রত পাল। কোন দিকে শিবলিঙ্গের মুখ থাকবে, সেই বিষয়ে কার্তিক মহারাজ পরামর্শ দেন সুব্রত বাবুকে। এ প্রসঙ্গে ওই ব্যবসায়ী তথা সমাজসেবী
সুব্রত পাল বলেন,’আমাদের আগেই ঘোষণা ছিল আমরা এখানে শিবলিঙ্গ তৈরি করব। আগে সরকারের আমলে তা তৈরি করতে পারিনি,তবে বর্তমান বিজেপি সরকারের আমলে আমরা তৈরি করতে পারব বলে আশাবাদী।’।
