এইদিন ওয়েবডেস্ক,বাংলাদেশ,০৮ আগস্ট : স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের বাড়িতেই এক মুসলিম সহকর্মীর সঙ্গে উদ্দাম যৌনতায় মেতেছিলেন এক হিন্দু গৃহবধূ । দু’জনকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় হাতেনাতে ধরল স্থানীয়রা । বাংলাদেশের সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঘটনা । চম্পা মল্লিক নামে ওই মহিলাকে কাপড় পরার সুযোগ দেওয়া হলেও আব্দুল মান্নান নামে ওই ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় ধরে আটকে রাখা হয় । আব্দুল মান্নান যুবদলের স্থানীয় নেতা বলে জানা গেছে । বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে আব্দুল মান্নানকে ওই নারীর ঘর থেকে আপত্তিকর অবস্থায় বের করে স্থানীয় লোকজন মারধর করে। ঘটনার কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়,আব্দুল মান্নান ‘ভাই’ পরিচয় দিতেন চম্পা মল্লিক । দীর্ঘদিন ধরেই দু’জনের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল । বৃহস্পতিবার দু’জনে যখন শারিরীক মিলনে রত ছিল সেই সময় মহিলার নারীর বাড়ি ঘেরাও করে রাখে স্থানীয় লোকজন৷ এরপর ভেতর থেকে আটকানো ঘরের দরজা ভেঙে আব্দুল মান্নানকে আটক করা হয়। পরে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে উপজেলা যুবদলের কয়েকজন নেতা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে ।
জানা যায়, আব্দুল মান্নান শ্যামনগর পৌরসভার চণ্ডীপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে। সে পৌর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে । এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আবুল কাশেম ও আবু হামজাসহ স্থানীয় কয়েকজন জানান, আব্দুল মান্নান ও ওই নারী কর্মসূত্রে পূর্বপরিচিত ছিলেন।
তবে অভিযোগকারী নারী দাবি করেছেন, বিভিন্ন সময়ে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে মান্নান প্রায়ই তার বাড়িতে গিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর প্রস্তাব দিত । বৃহস্পতিবার বাজারে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তিনি ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করেন বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে শ্যামনগর পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ফরিদুজ্জামান বাবু বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ শাফিউল আলম পাটোয়ারী বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার কথা পুলিশ জানতে পেরেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই দুই পরিবারের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা করে সংশ্লিষ্টদের সরিয়ে নেন।।
