এইদিন ওয়েবডেস্ক,হুগলি,১১ মে : রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তৃণমূলের বহু সাংসদ, বিধায়ক ও নেতারা যোগদান করার জন্য মুখিয়ে থাকলেও এই মুহুর্তে কোনো যোগদান করানো হবে না ৷ গতকাল রাতে মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় রোড শোতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন তৃণমূলের লোকেরা তৃণমূলেই থাকুন, বিজেপিতে জায়গা হবে না । এবারে তৃণমূলের দলছুট নেতাকর্মীদের যোগদান করানো নিয়ে আরও কঠোর বার্তা দিয়েছেন হুগলি জেলার উত্তরপাড়া বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী । তিনি দলীয় নেতাদের সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, তার অনুমতি ছাড়া তৃণমূলের কাউকে যোগদান করালেই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলীয় শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে ।
প্রসঙ্গত,গত ৪ মে বেলা ১২ টার পর ভোটের ফলাফলের ট্রেন্ড স্পষ্ট হতেই প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকর্মীদের মধ্যে হঠাৎ বিজেপি বনে যাওয়ার হিড়িক পড়ে যায় । কোথাও কোথাও তারা গলায় গেরুয়া উত্তরীয় জড়িয়ে,গেরুয়া আবীর মেখে এবং জয় শ্রীরাম শ্লোগান দিয়ে রীতিমতো উৎপাত শুরু করে দেয় বলে অভিযোগ । আর এই অভিযোগ শুধু বিজেপিই নয়,খোদ তৃণমূলের নেতানেত্রীদেরও তুলতে শোনা যায় । তৃণমূলের বহিষ্কৃত রাজ্য মুখপাত্র ঋজু দত্ত পর্যন্ত অভিযোগ তুলেছিলেন যে বেলা ১২ টা পর্যন্ত যারা তৃণমূল ছিল, ১২ টার পর তারা হঠাৎ গেরুয়া আবীর মেখে বিজেপি হয়ে যায় এবং তাকেই রীতিমতো হুমকি দিতে শুরু করে৷ যেকারণে তাকে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের সাহায্য নিতে হয় ।
উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন চক্রবর্তী এই প্রবনতা আটকাতে আজ ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দলীয় নেতাদের কড়া ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন । তিনি লিখেছেন,আমি, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, বিধায়ক উত্তরপাড়া, আমি ঘোষণা করছি,( আগেও দলীয়ভাবে ঘোষণা করেছি ) কোন তৃণমূল কর্মীকে বা পদাধিকারীকে বিনা আমার লিখিত অনুমতিতে যদি কোন বিজেপি সদস্য বিজেপিতে তাকে অন্তর্ভুক্ত করে তাহলে সেই বিজেপি সদস্য, সে যে পদাধিকারী হোক না কেন, তাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলীয় শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে ।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘সবাইকে জানাচ্ছি,, কোনভাবেই কোন তৃণমূলের প্রাক্তনীকে ভারতীয় জনতা পার্টিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না । এটা আমাদের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মহাশয় এবং রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশ।জয় হিন্দ! বন্দে মাতরম! ভারত মাতা কি জয়!’
