এইদিন ওয়েবডেস্ক,নয়াদিল্লি,১৭ আগস্ট : জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেছেন যে, তিনি জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান করেন। তিনি এর জন্য দাঁড়াবেন। কিন্তু তিনি এটি গাইবেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাংবিধানিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেছেন। ইমরান মাসুদের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গাঁধি এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গাঁধিকে ঘিরে ‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক একটি রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ বলেন,’আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করতে পারি না। এই অধিকার আমাকে সংবিধান দিয়েছে। কেউ তা আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে পারবে না। কিন্তু আমি ‘বন্দে মাতরম’-কে অসম্মান করব না। আমি এটি গাইব না, তবে এর সম্মানে অবশ্যই উঠে দাঁড়াব। তিনি বলেন যে, তিনি এখন পর্যন্ত ‘বন্দে মাতরম’ গাননি। ভবিষ্যতেও গাইবেন না।
আপনি ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রচার করতে পারেন। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমার যতটুকু উপযুক্ত মনে হবে, আমি ততটুকুই করব। প্রথমে ‘বন্দে মাতরম’-এর সম্পূর্ণ ইতিহাস পড়ুন। জানুন কী উদ্দেশ্যে, কেন এটি লেখা হয়েছিল এবং এর প্রেক্ষাপট কী, তারপর এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন, মাসুদ বলেছেন।
রাজস্থানের চিতোরগড়ে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানের অভিযোগ করেছেন। শাহ বলেন, স্বাধীনতা দিবসে কংগ্রেস সদর দফতরে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় সোনিয়া গাঁধি দলীয় কর্মীদের গান গাইতে নিষেধ করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এই ঘটনা দেখছে এবং আপনাদের ক্ষমা করবে না।
তবে, কংগ্রেস এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। সোনিয়া গাঁধি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বন্ধ করার কোনো নির্দেশ দেননি। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি পরামর্শ দিচ্ছিলেন যেন মল্লিকার্জুন খাড়গেকে একটি চেয়ার দেওয়া হয়, কারণ তিনি অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এই বছরের স্বাধীনতা দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণটি গাওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি ও মুসলিমদের একাংশ এর বিরোধ করে আসছে৷।
