এইদিন ওয়েবডেস্ক,মুর্শিদাবাদ,২৫ এপ্রিল : গতকাল বীরভূমের তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলেছিলেন,”বাবার জন্মে এমন ভোট দেখিনি । এই ৯৬-৯৭-৯৮ পারসেন্ট পোল….এই ১৫২ টা হল তো… প্রথমে আমি ১৩০ টা বলেছিলাম তৃণমূল কংগ্রেস ৷ ১৫-১৬ টা পাবি কিনা সন্দেহ আছে ।” অনুব্রতর এই মন্তব্যের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের আরো এক প্রার্থীর গলায় শোনা গেল হতাশার সুর ৷ তিনি হলেন মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমার সাগরদিঘী বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বাইরন বিশ্বাস৷ গতকাল রাতে তিনি সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরার সামনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে “আমি হারছি, জঙ্গিপুর হারছে, সামসেরগঞ্জ হারছে,ফারাক্কা হারছে৷”
বাইরন বিশ্বাস বলেছেন, ‘আমি আমার বিধানসভায় হারছি । জঙ্গিপুরের জাকির সাহেব হারছে । সামসেরগঞ্জের নুর আলম হারছে । ফারাক্কার আমিরুল হারছে । আর রাজ্যের খবর আমি বলতে পারব না । রাজ্যের খবর কেন্দ্র জানে । আর কেন্দ্রীয় বাহিনী ভালো করে যান । কোন ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন, দাদা । নমস্কার নমস্কার ।’
তিনি স্ট্রং রুমে ইভিএম কারচুপি করার ইঙ্গিত দিয়ে আরো বলেন,’আমি চাই বিজেপি জিতুক, বিজেপি সরকারে আসুক৷ আমি চাই কংগ্রেস জিতুক, কংগ্রেস সরকারে আসুক । আমি চাই সিপিএম জিতুক, সিপিএম সরকারে আসুক৷ আমি চাই আইএসএফ জিতুক, সরকারে আসুক৷ কিন্তু ন্যায্যভাবে৷ টিএমসিপি মমতা ব্যানার্জি বা অভিষেক ব্যানার্জিরা তো চায়না জোরজবস্তি করে থাকতে৷ জোরজবস্তি লুটপাট আমরা শিখিনি । আমি এখন কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিট যাচ্ছি৷’ তার অভিযোগ যে প্রশাসনকে বিপুল টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে এসে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার । শুক্রবার রাতে দফায় দফায় স্ট্রংরুমের সিসিটিভি ক্যামেরা অফ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি ।
প্রসঙ্গত,বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৪ টি জেলার ১৫২ টি আসনের ভোট গ্রহণ হয়েছে । ভোট পড়েছে রেকর্ড ৯২.৮৬% । বিজেপির কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত যে তারাই ক্ষমতায় আসতে চলেছে । অন্যদিকে তৃণমূলের ছোট-বড়-মাঝারি নেতা নেত্রীদের মধ্যে স্পষ্ট আতঙ্কের ছাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাকি ১৪২ আসনের ভোটের প্রচারেও তার ছাপ পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে । কারণ শাসক দলের প্রচারে তেমন ঝাঁঝ দেখা যাচ্ছে না । এখন আগামী ৪ মে বেলা বারোটার পর মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যাবে যে আগামী ৫ বছরের জন্য নবান্ন কার দখলে থাকবে৷।
