এইদিন আন্তর্জাতিক ডেস্ক,১৫ মে : শেখ হাসিনাকে উৎখাতের পর ‘রাজাকার’ মহম্মদ ইউনূস ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বেছাতে শুরু করে । পাকিস্তানের কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে বাংলাদেশে ঢোকার অবাধ ছাড়পত্র দেয় ইউনূস৷ সেই সমস্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে । পাশাপাশি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদেরও নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে বাংলাদেশে । উদ্দেশ্য, ভারতকে অস্থির করে তোলা । মহম্মদ ইউনূসের পর এখন বাংলাদেশের শাসনক্ষমতায় এসেছে আরও এক উগ্র ইসলামি দল- বিএনপি৷ কিন্তু তারপরেও ভারত বিরোধী নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি । বিএনপিকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান সরকার ভারতের বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে খবর আসছে ।
বাংলাদেশের ব্লিটিজ পত্রিকার সম্পাদক সালহা উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী জানিয়েছেন,বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরের পরপরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশ আসছেন। শরীফ ও মুনিরের এই সফরকালে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এছাড়াও একটি ব্যাপক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যার অধীনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রসহ অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিকে (বিওএফ) আধুনিকায়ন করবে।
তিনি আরও জানিয়েছেন,ভারতের বিরুদ্ধে বড়সড় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী । এই প্রসঙ্গে শোয়েব চৌধুরী জানিয়েছেন,যেখানে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী এবং তাদের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গোপনে ও প্রকাশ্যে নিয়মিত বাংলাদেশ সফর করছেন, সেখানে মুহাম্মদ ইউনুসের আগস্ট ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত শাসনকালে লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি), জইশ-ই- মুহাম্মদ (জেএম) এবং অন্যান্য সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকেও বাংলাদেশ সফর করতে এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড চালাতে দেখা গেছে—এখন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের (জেআইপি) নেতারা বাংলাদেশ সফর শুরু করেছেন এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করছেন।
তিনি জানিয়েছেন যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১০ মে ২০২৬ তারিখে আনুমানিক ভোর ৫টা ১০ মিনিটে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের দুজন শীর্ষ নেতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় এসে পৌঁছান। ওই সন্ত্রাসীদের তিনি চিহ্নিত করেছেন : ১, মাসুদ গাউস আইজাজী, সহকারী পরিচালক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। ২. ডঃ মিসেস সীমা মালিক, করাচি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী, মহিলা জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। শোয়েব চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থান করছেন।তাঁদের সম্ভাব্য প্রস্থানের তারিখ সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য যে, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান (জেআইপি) হামাসের সাথে শক্তিশালী আদর্শিক ও কর্মপরিচালনাগত সম্পর্ক বজায় রাখে এবং প্রায়শই হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের পরিবর্তে “বৈধ প্রতিরোধ শক্তি” হিসেবে সমর্থন করে। ২০২৫-২০২৬ সাল পর্যন্ত, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান পাকিস্তানে হামাসের একটি কার্যালয় খোলার জন্য সক্রিয়ভাবে দাবি জানিয়েছে, গাজার সমর্থনে গণর্যালির আয়োজন করেছে এবং এর দাতব্য শাখা আল-খিদমত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়াও, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান (জেআইপি) এবং লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি)-র মধ্যকার সংযোগের মূলে রয়েছে ইসলামপন্থী আদর্শের প্রতি তাদের উভয়েরই দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিকে, বিশেষ করে কাশ্মীর বিষয়ে, প্রভাবিত করার অভিন্ন লক্ষ্য।
যদিও জেআইপি মূলত একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দল এবং এলইটি একটি জঙ্গি সংগঠন, তারা একটি সহানুভূতিশীল, প্রায়শই পরস্পর সংযুক্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে কাজ করে।এছাড়া, জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান (জেআইপি) এবং জইশ-ই- মোহাম্মদ (জেএম)-এর মধ্যকার সংযোগ মূলত পরোক্ষ; এটি কোনো সরাসরি প্রশাসনিক বা সাংগঠনিক একীভূতকরণ নয়, বরং পাকিস্তানের অভ্যন্তরে তাদের অভিন্ন আদর্শিক, প্রশিক্ষণ এবং কর্মপরিচালনা নেটওয়ার্কের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। উভয় সংগঠনই পাকিস্তানের ইসলামপন্থী ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর একই বৃহত্তর পরিমণ্ডলের মধ্যে কাজ করে। জামায়াতে ইসলামী হলো মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা।
এখন প্রশ্ন উঠছে যে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ উন্মুক্ত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার জন্যই কি প্রতিবেশী ইসলামপন্থী রাষ্ট্রটির এত বিরোধীতা ? এই প্রসঙ্গে মমতা ব্যানার্জি নেতৃত্বাধীন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের ভূমিকা ও উদ্দেশ্যকে ফের একবার প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে ।।
Author : Eidin Desk.
