এইদিন ওয়েবডেস্ক,কলকাতা,১৩ জুন : রাজ্যে পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের একাধিক ঠিকানায় অভিযান চালালো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা এবং তার পার্শ্ববর্তী শহরতলির মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। এই অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু মদন মিত্র।কামারহাটিসহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় বিভিন্ন পদে বেআইনিভাবে ও অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি দেওয়ার ক্ষেত্রে মদন মিত্রের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে দাবি ইডির । তাই তদন্তের স্বার্থে দক্ষিণেশ্বর, জোকা ও ভবানীপুরে মদন মিত্রের ফ্ল্যাটে একযোগে ইডি অভিযান চালায় । তদন্তকারী সূত্রে খবর, তল্লাশির সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ও নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যও সামনে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই প্রোমোটার অয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করেছিল। সল্টলেকে অয়নের দপ্তরে তল্লাশি চালিয়েই উদ্ধার হয় বিভিন্ন পুরসভার চাকরিপ্রার্থীদের উত্তরপত্র বা ওএমআর শিট (OMR Sheet)। সেখান থেকেই পুরনিয়োগ দুর্নীতির এই বিশাল সাম্রাজ্যের হদিস মেলে, যার তদন্তভার এখন ইডির হাতেও রয়েছে।প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন পুরসভায় অন্তত ১২৫টিরও বেশি বেআইনি নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে এই তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের। অভিযোগ উঠেছে, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছিল। এই লেনদেন কখনও নগদ টাকায়, আবার কখনও সোনাদানার মাধ্যমে করা হয়েছে।গোয়েন্দাদের অনুমান, মদন মিত্র সরাসরি এই ঘুষের টাকা বা সোনা গ্রহণ করেননি। তাঁর বিশ্বস্ত কিছু ‘মিডলম্যান’ বা এজেন্টের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো। বর্তমানে সেই সমস্ত মধ্যস্থতাকারীদের ভূমিকা ও পরিচয় খতিয়ে দেখছে ইডি।
শুধু মদন মিত্রের ফ্ল্যাটই নয়, এদিন সকাল থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় ইডি। বেলেঘাটায় এক ঠিকাদারের বাড়িতেও পৌঁছয় তদন্তকারী দল। বিভিন্ন নথি ও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগেও একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। নতুন এই তল্লাশি অভিযানে তদন্তের কোন নতুন দিক সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।।
