মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক (ডিএনআই) তুলসি গ্যাবার্ড একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন যে মার্কিন সরকার ইউক্রেনসহ ৩০টিরও বেশি দেশে ১২০টিরও বেশি জৈবিক গবেষণাগারে অর্থায়ন করেছে। গ্যাবার্ড বলেন, এই গবেষণাগারগুলো বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণা চালাত এবং এই তথ্য বছরের পর বছর ধরে আমেরিকান জনগণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল।
শুক্রবার (১২ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে গ্যাবার্ড বলেন, কয়েকমাস ধরে গোয়েন্দা নথি এবং সরকারি রেকর্ড পর্যালোচনা করার পর তিনি জানতে পারেন যে মার্কিন অর্থায়নে বিশ্বজুড়ে জৈবিক গবেষণাগারের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল। তিনি ইউক্রেনের গবেষণাগারগুলো নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এই গবেষণাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, বাজেয়াপ্ত বা আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
গ্যাবার্ড দাবি করেছেন যে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল যে ইউক্রেনের কিছু গবেষণাগারে সম্ভাব্য বিপজ্জনক জীবাণু মজুত রাখা হয়েছে। যুদ্ধের সময় এই গবেষণাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে, সেগুলো একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন যে এই গবেষণাগারগুলোর অবস্থান, অর্থায়ন এবং কার্যকলাপ সম্পর্কিত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছিল।
গ্যাবার্ড বলেন, “এই মার্কিন-অর্থায়িত জৈব গবেষণাগারগুলোর অস্তিত্ব, ইতিহাস, অবস্থান এবং অর্থায়ন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছিল। যারা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাদের বিদেশি এজেন্ট এবং এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।”
গ্যাবার্ড ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই গবেষণায় ভাইরাস বা জীবাণু কীভাবে ছড়ায় বা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা বোঝার জন্য সেগুলোকে পরিবর্তন করা হয়। এই ধরনের গবেষণা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। গ্যাবার্ড এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২৫ মে, ২০২৫-এর নির্বাহী আদেশের সাথে যুক্ত করেছেন, যেখানে বিশ্বব্যাপী এই ধরনের গবেষণার জন্য ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি প্রাক্তন মার্কিন সরকার, কিছু স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং বিশেষ করে অ্যান্থনি ফাউচিকেও লক্ষ্যবস্তু করেছেন। গ্যাবার্ড অভিযোগ করেছেন যে, এই ল্যাবগুলো সম্পর্কে সত্য আমেরিকান জনগণের কাছ থেকে গোপন করা হয়েছিল এবং যারা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। গ্যাবার্ড বলেছেন যে, তিনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বিদেশে অবস্থিত এই বায়োল্যাবগুলো সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গ্যাবার্ড সম্প্রতি তার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণাও করেছেন। ২২শে মে, তিনি ঘোষণা করেন যে ৩০শে জুন তিনি পদত্যাগ করবেন। গ্যাবার্ড জানান যে, তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস এক বিরল ধরনের হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তিনি তার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে চান। তবে, কিছু প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে যে,বিদেশ নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু অংশের সাথে তার মতবিরোধ ছিল।।
